পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায়। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশল বিষয়ে বিএসসি এবং পানিসম্পদ প্রকৌশল বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮১ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর স্ট্রাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশল বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। পরে তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালে তিনি পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং ১৯৮৫ সালে পূর্ণ অধ্যাপক হন। তিনি ২০১০ থেকে ’১৪ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ও ফিলিপাইনে বিশ্ব ব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু যমুনা সেতু নির্মাণকালে এর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পানি কাউন্সিল, ইন্দো-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ জাতীয় কৃষি কমিশন এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কাউন্সিলের সদস্য। সম্প্রতি ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সম্পাদকীয় বিভাগের অনিন্দ্য আরিফ
দেশ রূপান্তর : ২০১৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, ইটভাটার সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৯০২ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ইটভাটা ঢাকা বিভাগের মধ্যে গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটা বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী। সরকার এই ইটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য ছয় বছরমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপকে কীভাবে দেখছেন?
আইনুন নিশাত : হ্যাঁ, এটা ঠিক যে ইটের বদলে যদি ব্লক ব্যবহার করা হয়, তাহলে বায়ুদূষণ কমে আসবে। তবে ইটের আরও বিকল্প আছে। একটা উদাহরণ এ ক্ষেত্রে দেওয়া যায়, যেমন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজসহ মিরপুরে সেনাবাহিনীর যত স্থাপনা আছে, সবটিতে সিরামিকের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। কেননা মিরপুরে সিরামিক কারখানা রয়েছে। এসব সিরামিক কারখানায় বাইরে থেকে মাটি নেওয়া হয় না। গর্ত করে নিচ থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে। ইটের ভাটার বিরুদ্ধে আমাদের দুটি আপত্তি রয়েছে। প্রথমত, তারা টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করে। উপরিভাগের উর্বর মাটিই এখানে ব্যবহার করা হয়। এতে যে ক্ষতিটা হয়, সেটা হলো হাজার বছর ধরে মাটির যে গঠন গড়ে উঠেছে, তা হারিয়ে যায়। এটা পরিবেশগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয় ব্যাপারটি হচ্ছে, এখানে মাটি পোড়ানোর সময় কয়লা পোড়ানো হয়, যা থেকে কালো ধোঁয়া তৈরি হয়। ফলে বায়ুদূষণ হয়। অবশ্য বিকল্প অনেক প্রযুক্তি আছে। পরিবেশ অধিদপ্তর এ ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া সরকারের স্বল্প ঋণের প্রকল্প রয়েছে। এখন অসুবিধা হচ্ছে, যেসব আধুনিক ইটের ভাটা রয়েছে, তারা ১৫-২০টি ইটের ভাটার সমান ইট তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে সরকার তাদের বিকল্প প্রযুক্তি বা পরিবেশবান্ধব ইটের ভাটা তৈরি করতে উৎসাহিত করতে পারে। অবশ্যই ইটের ভাটা বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। আমি আরেকটা বিষয় যোগ করতে চাই। সেটি হলো বাতাসের গতিবেগ কোনদিকে প্রবাহিত হচ্ছে সেটা বোঝা দরকার। যেমন ঢাকার আশপাশে অর্থাৎ উত্তরদিকে গাজীপুর ও জয়দেবপুরে অনেক ইটের ভাটা রয়েছে। এখন শীতের সময় উত্তর থেকে দক্ষিণে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় ঢাকা শহরে প্রচুর কালো ধোঁয়া ঢুকছে। এভাবে ঢাকা শহরের বায়ু দূষিত হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়ার নির্গমন ঘটছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট যানবাহনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৪। এই বিপুল পরিমাণ কালো ধোঁয়া নির্গমন কীভাবে রোধ করা সম্ভব?
আইনুন নিশাত : এর উত্তরটা খুব মজার। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটছে। উন্নতি হলে তো গাড়ির সংখ্যা বাড়বে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার ফলে তার সক্ষমতাও বাড়ছে। তাই মানুষের মুভমেন্ট বাড়ছে। আগে দিনাজপুরের একটি লোক জীবনে একবার কিংবা দুবার ঢাকায় এসেছে কি না সন্দেহ। বগুড়া বা রাজশাহীর ক্ষেত্রেও তাই। যেখানে ট্রেনের যোগাযোগ ছিল, সেখানে মানুষের সীমিত পরিমাণের চলাফেরা ছিল। বিভিন্ন কারণে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ বেড়াতে যায়। যেমন কক্সবাজারে আমি প্রথম যাই ১৯৭০ সালে। তখন ছুটির দিনে সৈকতে ৫০ জন লোক দেখেছি কি না সন্দেহ। আর এখন ছুটির দিনে খুব সহজেই পাঁচ লাখ লোক দেখতে পাওয়া যায়। মানুষ এখন বিনোদনের জন্য বেড়াতে যাবে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা দেশের বাড়িতে যাবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। সে কারণেও যাতায়াত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে, এটা শুধু একটা তথ্য। এ তথ্যের ভেতরের ব্যাপারটি বিশ্লেষণ করতে হবে। এই বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যানবাহনের ধারণক্ষমতা এর সঙ্গে জড়িত। যেমন একটা বাসের ধারণক্ষমতা ৪০ জনের। এখন সেই বাসের ছাদে যদি অনেক মালামাল তুলি এবং ৪০ জনের জায়গায় যদি ৬০ জন তুলি, তাহলে কী ঘটবে? এখন ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোক হওয়ায় ইঞ্জিন যে ডিজেল বা পেট্রল দ্বারা পরিচালিত হতো, তা ঠিকমতো না পুড়ে কালো ধোঁয়ার নির্গমন ঘটাবে। গাড়ি চলার ক্ষেত্রে আমার কোনো আপত্তি নেই, বাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু সেগুলো যেন নিয়ম মেনে চলে। ওভারলোডিং যেন না হয়। আমি তো উন্নতিকে আটকে রাখতে পারি না। কিন্তু সেই উন্নতির সঙ্গে যেন নিয়মটাও মানা হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটা সেভাবে চিন্তা করতে হবে। এই যে পরিবেশ অধিদপ্তরের কথা বলা হচ্ছে, তারা তো কালো ধোঁয়া পরিমাপ করতে পারবে না। তারা বাতাসের মান উন্নয়নের জন্য ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প পেয়েছে। সেটা তারা ব্যবহার করছে ভবন নির্মাণে কিংবা ফুটপাথ তৈরিতে। এটা তো তাদের কাজ নয়। তারা তো যেসব গাড়ি গ্রহণযোগ্য মাত্রার বেশি কালো ধোঁয়া ছাড়ছে, তাদের জরিমানা করার ব্যবস্থা করতে পারে।
দেশ রূপান্তর : এখন বায়ুদূষণ কীভাবে কমানো সম্ভব?
আইনুন নিশাত : আপনি যদি এখন বিবিসি দেখেন, তাহলে দেখবেন সিডনি শহরে কিছু দেখা যাচ্ছে না। পৃথিবীর সেরা পাঁচটি শহরের মধ্যে সিডনি অন্যতম। এখন শহরটির পাশের বনে আগুন ধরেছে। সেখানে কিছু দেখা যাচ্ছে না। আপনি যদি ইউরোপে যান, তাহলে দেখবেন এখন সেখানে বৃষ্টি হয়। কিন্তু সেখানে গ্রীষ্মকালে প্রচুর ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। শরৎকালে পরাগরেণু দেখা যায়। আমাদের এখানেও শরৎকালে কাশবনের কাছে প্রচুর পরাগ বা পলেন দেখা যায়। এই পলেন স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর। খড় পোড়ালে এ পলেন উৎপন্ন হয়। আপনি যদি পুরনো দিনের ইংরেজি সিনেমা দেখেন, বিশেষ করে ‘মাই ফেয়ার লেডি’ দেখেন, তাহলে দেখবেন রাত ৩টার সময় টেমস নদীর পানি দিয়ে রাস্তা ধোয়া হচ্ছে। অর্থাৎ রাস্তার ধুলা যেন পরের দিন না ছড়ায়, সেজন্য পানি দিয়ে তা কাদায় পরিণত করা হচ্ছে। এখন ইটের ভাটা আমাদের বায়ুদুষণ করছে। কালো ধোঁয়ার জন্য বায়ু দূষিত হচ্ছে। আবার নির্মাণ কাজের জন্যও বায়ু দূষিত হচ্ছে। এখন উন্নতির জন্য তো নির্মাণকাজ চালাতে হবে। মেট্রোরেল হচ্ছে। কোনো প্রকল্প চালানোর সময় আইন আছে যে ওই নির্মাণাধীন সময়ে বা নির্মাণ শেষ হলে পরিবেশের কী কী বিপর্যয় ঘটবে, তার তালিকা বিশেষজ্ঞরা তৈরি করবে। যে ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে চুক্তিতে শর্ত দেওয়া হচ্ছে ধুলার ওপর পানি ছিটানোর। এজন্য সরকার টাকাও বরাদ্দ দিচ্ছে। আর সরকার তো এই অর্থ ঋণ করছে। অর্থাৎ আপনার-আমার টাকা নিয়ে তাকে দিচ্ছে। আপনি যদি এখন পদ্মা সেতু নির্মাণ স্থানে যান, তাহলে দেখবেন কোনো ধুলা নেই। কেননা সেখানে ঝরনার মতো করে পানি ছিটিয়ে দিচ্ছে। ঢাকা শহরে তো বাড়ি নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু নির্মাণের জন্য যে বালু রয়েছে, তা ঢেকে রাখতে সমস্যা কি? চটের বস্তা বা ঢেউটিন দিয়ে তো বালু ঢেকে রাখা যায়। বায়ুদূষণের জন্য আরেকটি জিনিস দায়ী, যা খুবই লজ্জাজনক। আপনি যদি এখন ফার্মগেটে যান, তাহলে দেখবেন রাতে দোকানদাররা তাদের বিক্রয়ের জন্য জিনিসগুলো খুব সুন্দরভাবে সেলফে রেখে দোকান বন্ধ করে যাচ্ছেন। কিন্তু প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালসগুলো অর্থাৎ কাগজ বা পলিথিন দোকানের ফ্লোরে জমা করছেন। সকালে দোকানের শাটার খুলে তারা এ ময়লাগুলো ঝাঁট দিয়ে ফুটপাতে ফেলছেন। এরপর সকাল ৯টার দিকে মিউনিসিপ্যালটির কর্মীরা সেটা পরিষ্কার করতে ঝাঁট দিচ্ছে। এটা হবে কেন? যদি দোকানদাররা রাতে তাদের ময়লাগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করতেন এবং ভোরবেলায় ক্লিনাররা এটি পরিষ্কার করত তাহলে তো ধুলা ছড়াত না। আসলে আমাদের অভ্যাস এর জন্য দায়ী। দেখা যায় যে গাড়ির কাচ নামিয়ে পানির বোতল রাস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন এটা করা হবে? দোকানদাররা কিংবা বাড়ির মালিকরা যদি নিয়ম করে বাড়ির বা দোকানের সামনের অংশে পানি ছিটিয়ে দিত, তাহলে ধুলার পরিমাণ অনেক কমে যেত। এতক্ষণ আমরা সমস্যাগুলো জানলাম, এখন সমাধান তো করতে হবে। সব সমাধান তো মেয়র সাহেব করবেন না। এখন দোকানদার বলতে পারেন যে আমি কোথায় ময়লা ফেলব, তার নির্দিষ্ট পয়েন্ট নেই। আসুন, সেই ব্যাপারে কথা বলি। ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট পয়েন্ট ঠিক করা দরকার। সর্বোপরি, শুধু সরকারি উদ্যোগেই বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব নয়, আমাদের অভ্যাসটাও বদলাতে হবে।
দেশ রূপান্তর : শুধু বায়ুদূষণই নয়, ঢাকা এখন সবচেয়ে উত্তপ্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে নগরীতে ফাঁকা জায়গা দিন দিন কমে যাচ্ছে। জায়গার তুলনায় কংক্রিটের বাড়িঘরের ঘনত্ব অনেক বেশি। একের পর এক হাইরাইজ ভবন রোদের উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কী করা যায়?
আইনুন নিশাত : আমাকে গত বছর গরমের সময় এক সাংবাদিক চট্টগ্রাম থেকে ফোন করেছেন। তিনি ফোনে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘স্যার শহর উত্তপ্ত হয়ে গেছে। যা তাপমাত্রা তার চেয়ে তিন-চার ডিগ্রি বেশি গরম অনভূত হচ্ছে। এটা হচ্ছে কেন?’ গত বছর কিন্তু গরম বেশি পড়েনি। যেজন্য আম জ্যেষ্ঠ মাসে ঠিকমতো পাকেনি। আমি তাকে বললাম, ‘এখন তো গরম বেশি নেই। অর্থাৎ ৪০ ডিগ্রি যে হওয়ার কথা সেটা নেই।’ তিনি বললেন, ‘কিন্তু স্যার গরম তো অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।’ আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনি কতলায় আছেন?’ উনি বললেন, ‘তিনতলায়।’ আমি বললাম, ‘আপনি আপনার এয়ারকুলারের পেছনে দাঁড়াতে পারবেন?’ উনি বললেন, ‘আমার এয়ারকুলার উইন্ডো টাইপের অর্থাৎ পেছনে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।’ আসলে উনার এসির পেছন থেকে যে লু হাওয়া বইছে, তা কিন্তু গরম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আপনি যদি আগ্রাবাদে কিংবা মতিঝিলের মতো বাণিজ্যিক এলাকায় যান, তাহলে উত্তপ্ততা টের পাবেন। শুধু বাণিজ্যিক এলাকা নয়, আবাসিক এলাকাগুলোতেও একই রকম অবস্থা। এসির এ উত্তাপের কারণে ‘হিট আইল্যান্ড’ বা ‘উত্তপ্ত দ্বীপ’ তৈরি হচ্ছে। শহরের মতো এ উত্তাপ কিন্তু গ্রামে নেই। এখানে সমাধান কী? আমার মতটি দুটি উদাহরণ থেকে পরিষ্কার হবে। প্রথমটি হলো, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের। তিনি লক্ষ করলেন, বাইরে প্রচ- বরফ পড়া সত্ত্বেও হোয়াইট হাউজের লোকেরা সব শার্ট পরে আছেন। কারণটা কী? তারা আসলে হিটার চালিয়েছেন ৭৬-৭৮ ডিগ্রিতে। বাইরে বরফ পড়ছে, অথচ তারা শার্ট গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গরমের দিন তিনি লক্ষ করলেন, বাইরের লোকজন শার্ট গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়ালেও তার অফিসের লোকজন স্যুট পরে আছেন। অর্থাৎ তারা কুলিং সিস্টেমে তাপমাত্রা ৬৮-৭০ করে রেখেছেন। উনি সরকারি আদেশ দিলেন, উল্টোটা করতে হবে। অর্থাৎ শীতকালে হোয়াইট হাউজের সবাই কুলিং সিস্টেমে তাপমাত্রা ৬৮ করবে এবং সবাই স্যুট পরে থাকবেন। আর গরমে এসি বন্ধ থাকবে এবং কেউ টাই পরবেন না। জিমি কার্টার নিজেও টাই পরতেন না ও স্যুট কম পরতেন। এর ফলে উত্তাপ কম ছড়াবে। দ্বিতীয় উদাহরণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অফিস আদেশ দিয়েছেন, তার সামনে কেউ যেন টাই পরে না আসে। তিনি বলেছেন, গরমের দিনে এসিটাকে অত ঠা-া করো না। পারলে জানালা খুলে দেও এবং টাই পরা, স্যুট পরা বন্ধ। এ ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করে উত্তাপ কমানো যায়।