আয় অনুপাতে গরিবের পেঁয়াজ ব্যয় ধনীর চেয়ে বেশি

গরিবের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি পেঁয়াজ খান ধনীরা। যদিও আয় বিবেচনায় পেঁয়াজে গরিবেরই ব্যয় বেশি। আয় অনুপাতে শতকরা হারে শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের পেঁয়াজে খরচ হয় বেশি। একই হিসাবে যাদের মাসিক আয় ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে, তারা পেঁয়াজে সবচেয়ে বেশি খরচ করেন। যাদের মাসিক আয় ৩০-৩৫ হাজার টাকার মধ্যে, পেঁয়াজে তাদের খরচ আয় অনুপাতে কম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত জুনে প্রকাশ করা হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (হেইস) ২০১৬ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) করা এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সিলেটের মানুষ সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ খান। সিলেটের পর সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ খান ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মানুষ। সবচেয়ে কম পেঁয়াজ খাওয়া বিভাগ হলো বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম। বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতিটি পরিবারের আয়ের শতকরা ১ দশমিক ৫৬ ভাগ ব্যয় হয় পেঁয়াজের পেছনে। যেসব পরিবারের মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার কম, পেঁয়াজে তাদের ব্যয় আয়ের ১ দশমিক ৭১ ভাগ। ২০-২৫ হাজার টাকার মধ্যে আয়ের পরিবারগুলো পেঁয়াজে ব্যয় করে আয়ের ১ দশমিক ৬৪ ভাগ। পরিবারের আয় যত বেশি, শতকরা হারে পেঁয়াজে ব্যয়ও তত কম। আয় অনুপাতে পেঁয়াজে ধনীর চেয়ে গরিবের ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিবিএসের তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপসচিব ও হেইস প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. দীপঙ্কর রায় গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গরিবদের সন্তান বেশি থাকে। আর ধনীদের সন্তান কম। যেহেতু গরিব মানুষের আয় কম, তাই তার আয়ের বড় অংশই পরিবারের সদস্যদের জীবনধারণের জন্য ব্যয় করতে হয়। এজন্য পারিবারিক হিসাবে, পেঁয়াজ বা অন্যান্য খাদ্যগ্রহণে ধনীদের তুলনায় গরিবের ব্যয় বেশি।

বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আয় বিবেচনায় গ্রাম ও শহর স্থানেই ধনীর চেয়ে গরিবের পেঁয়াজ-খরচ বেশি। গ্রামের মানুষ গড়ে আয়ের ১ দশমিক ৫৫ ভাগ অর্থ পেঁয়াজ কিনতে ব্যয় করেন। তবে গ্রামের যেসব পরিবারের আয় মাসে ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে, তারা তাদের আয়ের ১ দশমিক ৭৫ ভাগ পেঁয়াজের পেছনে খরচ করে। এটি গ্রামপর্যায়ে খরচের সর্বোচ্চ হার। গ্রামে যেসব পরিবারের আয় মাসে ৩৫ হাজার টাকার বেশি, তারা সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ ব্যয় করেন পেঁয়াজে।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরে প্রতি পরিবার গড়ে তাদের আয়ের ১ দশমিক ৫৭ ভাগ পেঁয়াজ কিনতে ব্যয় করে। এর মধ্যে যেসব পরিবারের আয় ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে, তারা সর্বোচ্চ আয়ের ১ দশমিক ৭৮ ভাগ টাকায় পেঁয়াজ কেনেন। শহরে যাদের আয় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা আয়ের ১ দশমিক ৬৭ ভাগ পেঁয়াজ কিনতে ব্যয় করেন।

বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ ও রিসার্চ ফেলো ড. মো. মইনুল হকের ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে করা ‘বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার : প্রতিযোগিতা নিরূপণ ও সম্পৃক্তদের ভূমিকা’ শিরোনামে করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগে পরিবারপ্রতি পেঁয়াজের ভোগ বেশি। এ বিভাগের শহরাঞ্চলের প্রতি পরিবার মাসে ৪ দশমিক ১১ কেজি পেঁয়াজ খায়। গ্রামের পরিবারপ্রতি পেঁয়াজ লাগে ৩ দশমিক ৫৮ কেজি। ঢাকা বিভাগের শহরাঞ্চলের প্রতি পরিবারে গড়ে ৩ দশমিক ৯৮ কেজি ও গ্রামে ২ দশমিক ৫৬ কেজি পেঁয়াজ লাগে। সবচেয়ে কম পেঁয়াজ লাগে বরিশাল বিভাগের শহুরে পরিবারগুলোর। বিভাগটির শহরের পরিবারগুলো মাসে গড়ে ২ দশমিক ৫৫ কেজি পেঁয়াজ খায়। আর সবচেয়ে কম পেঁয়াজ খায় খুলনা বিভাগের গ্রামীণ পরিবারগুলো। এসব পরিবার মাসে গড়ে ২ দশমিক শূন্য ৯ কেজি পেঁয়াজ ভোগ করে।

সিলেটের মানুষ বেশি পেঁয়াজ খাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘বিবিএসের ২০১০ সালের হেইস রিপোর্ট থেকে এ তথ্য নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই।’