কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

স্বামীর ঠিকানাই নারীর স্থায়ী ঠিকানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিবাহিত নারীদের স্বামীর ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ১৯২৫ সালের দ্য ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্টের ১৬ নম্বরে বলা হয়েছে, বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে স্বামীর বাড়ি ওই নারী বা স্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে। ওই আইনটি এখনো বহাল আছে। সে বিবেচনা থেকেই এই শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে নারী নেত্রীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শর্ত নারী মুক্তির অন্তরায় এবং নারী সমাজ এই শর্ত মানতে রাজি নয়।

নারী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, ২০১৯ সালেও চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের বিধান থাকার মানে হচ্ছে নারীকে আবার পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়া। নারীকে স্বামীর ঠিকানা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ৯৫ বছর পর হঠাৎ করে ওই আইনের বিধান অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত জুড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টÑ১ প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক পদের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের এ পদে আবেদন করতে হবে।

নারীর উন্নয়নে কাজ করা খুশী কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক হঠাৎ করে ৯৫ বছর আগের আইন নিয়ে বসল কেন? এটি যদি আইনে থাকে, তাহলে তারা এতকাল ঘুমিয়ে ছিল কেন?

তিনি বলেন, একজন নারী নিজে তালাক দিতে পারেন, তালাক হতে পারেন, বিধবা হতে পারেন। কাজের প্রয়োজনে তিনি স্বামীর ঠিকানার বাইরে স্থায়ী নিবাস গড়তে পারেন। অথবা স্বামীও বিদেশে থাকতে পারেন, কারাগারে থাকতে পারেন। তাই প্রায় শতবর্ষ পুরনো ওই আইন এখন প্রয়োগ করার কোনো যুক্তি নেই। আইনের ওই বিধানটি বাংলাদেশের নারী মুক্তি আন্দোলনের পরিপন্থী, নারী সমাজ ওই বিধান মানবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ব্যাংকটির মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চাকরির আবেদন করতে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে, বিষয়টি সে রকম নয়। তালাক অথবা কোনো কারণে ওই নারী প্রার্থী পরে যদি স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান, তাও করতে পারবেন। এতে সমস্যার কিছু নেই। নারী প্রার্থীর চাকরির সঙ্গে কিছু সুবিধা থাকে, যা স্বামী পান। আবেদন করার সময় কোনো প্রার্থী অবিবাহিত থাকলে চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে করলে সে তথ্যও জানাতে হয়। এ ছাড়া ১৯২৫ সালের দ্য ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্টেও বলা আছে, বিবাহিত নারীর স্থায়ী ঠিকানা হবে স্বামীর ঠিকানা। সরকার যেহেতু আইনটি বাতিল করেনি, আমরাও সে আইন মেনেই চলছি। তবে এ নিয়ে নারী প্রার্থীদের আপত্তির বিষয়টি নোটিসে নিলাম, ভবিষ্যতে সরকারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানাব।

২০১১ সালে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি করেছে। সে নীতিতে উপার্জন, উত্তরাধিকার, ঋণ, ভূমি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, স্থায়ী ঠিকানা যদি আগে কোনো সার্টিফিকেট বা অন্যত্র উল্লিখিত স্থায়ী ঠিকানা থেকে ভিন্নতর হয় অথবা নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যদি স্বামীর ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে প্রার্থীকে পরিবর্তিত স্থায়ী ঠিকানার সপক্ষে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়র/ওয়ার্ড কমিশনার/পৌরসভার মেয়র/কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নোটারি পাবলিক কর্র্তৃক স্বাক্ষরিত সনদপত্র মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডে জমা দিতে হবে।