আগামী ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন না হলে বিএনপি রাজপথে আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা। তারা প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের ওপর আস্থা রাখতে চান। এজন্য ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বড় ধরনের আন্দোলনে যাবেন না।
এ ব্যাপারে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনগতভাবে চেয়ারপারসনের মুক্তি না হলে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু আদালতের পদক্ষেপের অপেক্ষা করছেন তারা। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রাখতে চায়। ১২ ডিসেম্বর জামিন না হলে স্পষ্ট হবে সরকারের বাধায় নেত্রীর জামিন হচ্ছে না। সে ড়্গেত্রে ধাপে ধাপে রাজপথে আন্দোলন করবে নেতাকর্মীরা। কারণ সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন না দিলে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলা ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।’ তিনি বলেন, যেহেতু চেয়ারপারসনের মামলা আদালতে রয়েছে সেহেতু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছোটখাটো কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের কিছু নমুনা গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন দেখিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। আগেভাগে কর্মসূচি ঘোষণা করা না হলেও নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে সভা-সমাবেশ-মিছিল করে যাবেন।
যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুবদল আজ শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গতকাল তারা মুগদা বিশ্বরোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তাছাড়া গত বৃহস্পতিবার জামিনের শুনানি পেছানোর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর গুলশানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তারা।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম রবিবার হাইকোর্টসহ সারা দেশের সব জেলা বারে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইতিমধ্যে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভাগীয় শহরে সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এসব সমাবেশে ঢাকা থেকে যাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিএনপির দপ্তরসংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, আজ শনিবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা ডাকা হয়েছে। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিন বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সভায় মির্জা ফখরুল দলের নেতাকর্মীদের আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেবেন। সভা শেষে আগামী রবিবার ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনগতভাবে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য লড়াইয়ের সর্বশেষ পথ হলো প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। এখানে জামিন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে নেত্রীকে মুক্ত করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না আমাদের জন্য। ইতিমধ্যে দলের নীতিনির্ধারকরা গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই দফা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে কী কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হবে সে বিষয়ে তারা আমাদের কোনো নির্দেশনা দেননি। নির্ধারিত সময়ের আগেই আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন বলে অপেক্ষা করছি।