অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটির জাতীয় কনভেশন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই কনভেশন থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে জাতীয় জাগরণ সৃষ্টির। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ উপকূলে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এবারের কনভেনশনে ছিল আরেকটি বিশেষত্ব। কনভেনশনের নিবন্ধন ফরম যে কাগজে ছাপা হয়েছে, সেটি তৈরি হয়েছে হাতে। আর এর মধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়েছে ১১ জাতের শাক-সবজির বীজ। বিদেশে এ ধরনের কাগজকে ‘সিড পেপার’ বললেও বাংলাদেশে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বনকাগজ’।
কাগজটি তৈরি করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মাহবুব সুমন। কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যেহেতু প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে কাজ করি তাই এই কনভেশনকেও পরিবেশবান্ধব করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সদস্য মাহবুব সুমন বনকাগজ তৈরির উদ্যোগটি নেন। তার চেষ্টায়ই প্রথমবারের মতো দেশে এ ধরনের কাগজের ব্যবহার হলো।
তিনি বলেন, দেশে প্লাস্টিক দূষণের হার ভয়াবহ হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রকৃতি ও প্রতিবেশ। এ অবস্থায় এ ধরনের বিকল্প উদ্যোগ পরিবেশের জন্য নতুন আশার আলো দেখায়।
এদিকে কমিটির আরেক সদস্য রুবেল আবুল হাসান বলেন, হাতে তৈরি এই কাগজের ভেতরে ৮ ধরনের সবজি ও ৩ ধরনের ফুলের বীজ লুকানো আছে। কাগজখানার কাজ শেষ হয়ে গেলে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে ফেলে রাখলে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে। গাছ হয়। বিদেশে এটাকে ‘সিড পেপার’ বলে। বাংলাদেশে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বনকাগজ’।