ইলেকট্রিক ইল। আমাজন অঞ্চলের মিঠা পানির একটি মাছ। দেখতে অনেকটা বাইন মাছের মতো। প্রাণীটির বিশেষত্ব হচ্ছে এর শরীরে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। সাধারণত শিকারের সময় বা ভয় পেলে আত্মরক্ষার জন্য অন্য কাউকে আক্রমণের সময় এর সœায়ুর ক্রিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ বর্তনী তৈরি করে শক্তিশালী বিদ্যুৎ। ৫০০ থেকে ৮০০ ভোল্টের ওই বিদ্যুৎ যেকোনো বড় প্রাণীকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ধরাশয়ী করতে পরে। এ কারণে মাছটির বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি দেখতে ততোটা আকর্ষণীয় না হওয়ায় মাছটির বদনাম আরও বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে টেনেসাস অঙ্গরাজ্যের একটি অ্যাকুরিয়ামে একটি ইল এবার সুনাম কুড়াচ্ছে সারা দুনিয়ার। মিগুয়েল ওয়াটসন নামের ওই মাছটির শরীরের বিদ্যুতেই জ্বলছে ক্রিস্টমাস ট্রিতে লাগানো ঝলমলে বাতি, বাজছে মিউজিকও।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ওই অ্যাকুরিয়ামটির অডিও ভিজু¨য়াল প্রডাকশন স্পেশালিস্ট জোয়ি টার্নিস্পিড ইলটির শরীরে এমন একটি সেন্সর লাগিয়ে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে সংগৃহীত হচ্ছে তার শরীরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ। পরে তাতে জ্বলছে আলো। বাজছে সাউন্ড বক্স।
জোয়ি বলেন, ইল মাছ যখন খাদ্য খুঁজতে নামে তখন তার শরীরে খুবই কম ভোল্টের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। সে যখন খাবার খায়, তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে যায় অনেকটাই। আবার ভয়ের কারণে অন্য কোনো প্রাণীকে আক্রমণের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার যায় আরও বেড়ে। এই বিষয়টির ওপর ভিত্তি করেই ক্রিসমাস ট্রির বাতিতে ইল মাছের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা মাথায় আসে।
তিনি জানান, মাছটি যখন খাবার গ্রহণ করে তখন এর শরীরে মাত্র ১০ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। কিন্তু সে যখন আত্মরক্ষার্থে অন্য কাউকে আক্রমণ করতে যায়, তখন তার শরীরে ৮০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ঠিক তখন মানুষসহ বড় কোনো প্রাণীর শরীরে মাছটির ছোঁয়া লাগলে সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ বা ওই প্রাণী মারা যায়।
ইলেকট্রিক ইলের দেহের পেশি আর সœায়ুকোষ বিশেষভাবে গঠিত এবং এর মাধ্যমেই ইলেকট্রিক ফিল্ড তৈরি করে। তবে লেজের বিশেষ অঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। কোনো শত্রু বা শিকারের আভাস যখন সে পায়, তখন তার সœায়ুর ক্রিয়ার দরুন নেগেটিভ পজেটিভ বর্তনী তৈরি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।