খুবিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির অভিযোগ ৪২ শিক্ষকের

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অবকাঠামোগত উন্নয়নসসহ নানা কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপিস্ননের ৪২ জন শিক্ষক। তারা গত ৩ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের ভাষ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া তথ্যমতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জীবনানন্দ দাশ অ্যাকাডেমিক ভবন, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিতা হল, প্রশাসনিক ভবন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, লাইব্রেরি ভবন ও গেস্ট হাউজসহ নতুন ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে অভিযোগকারী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বরপ্রকাশিত একটি প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, দরপত্রের শিডিউল অনুযায়ী কবি জীবনানন্দ দাশ অ্যাকাডেমিক ভবনের ছাদ সাড়ে ৫ ইঞ্চি পুরুত্বের হওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর পুরুত্ব ৩ থেকে সাড়ে ৪ ইঞ্চি। ফলে এক বছরের মধ্যেই ভবনের ছাদ, বিম ও দেয়ালসহ অসংখ্য জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুসারে, ছাদ নির্মাণে এমন দুর্নীতির কারণে সেই ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুর্নীতির কারণ হিসেবে তদন্ত কমিটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অসততা ও অভ্যন্তরীণ প্রকৌশলীদের দুর্নীতিকে দায়ী করেছে এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। কিন্তু এরপর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

এছাড়া বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নির্মাণের ড়্গেত্রেও দুর্নীতির চিত্র শিক্ষকরা তুলে ধরেছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, দুটি প্রতিষ্ঠানের কোটেড অ্যামাউন্ট এবং ডিভিয়েশনের হার হুবহু এক হওয়ার পরও টেন্ডার কমিটি বিষয়টি আলোচনায় না এনে সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের ডিসিএল অ্যান্ড জিকেবিপিল জেভি এর দরপত্র অনুমোদন করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্থার পক্ষ থেকে দরপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর টেন্ডার কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরপত্রটি বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে একই বছরের ১৮ অক্টোবরের সভায় আবারও জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠানেরই দরপত্র অনুমোদন করা হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের একজন ইংরেজি ডিসিপিস্ননের সহযোগী অধ্যাপক মো. নূরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কবি জীবনানন্দ দাশ অ্যাকাডেমিক ভবনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হয়। ভবনের নানা জায়গায় দৃশ্যমান ফাটলের কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে শঙ্কিত। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখার জন্য। প্রশাসন এসব অভিযোগের আশানুরূপ ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে খুবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষকরা যেসব সমস্য নিয়ে অভিযোগ করেছেন তার অধিকাংশই পুরাতন এবং এসবের সমাধানও করা হয়েছে। অর্থ লেনদেন বা দুর্নীতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জড়িত নয়। তাছাড়া দুদকের প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত আমরা হাতে পাইনি।’