বাড়তি দামের কারণে কৃষকদের অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে ফেলায় সরকার উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সেচ ভবনে ‘কৃষি বাজার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, কৃষকের ন্যায্য দামের স্বার্থে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো দরকার নেই। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল রয়েছে। অবশ্য যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, সেটা আলাদা কথা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজ এখনো বড় হয়নি। কিন্তু বাড়তি দামের কারণে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। আমরা এটা নিয়ে শঙ্কিত। সব ছোট ছোট পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছে। জানুয়ারি মাসে কী উপায় হবে? পেঁয়াজের উৎপাদন তো কমে যাবে। এ বছর পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় আগামী বছর দেশে অনেক বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে। এতে কৃষক পরবর্তী বছর পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।’ তিনি বলেন, এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। সেটা যদি ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তাহলে কৃষকরা ধান চাষ করবেন না। এবার ধানের দাম ৭০০ টাকা হয়েছে আমাদের জন্য, বাংলার লক্ষ লক্ষ কৃষকের জন্য, যাদের ৫০ ভাগের জীবিকা এখনো কৃষি। তাদের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে। আমরা মোটা চাল বিক্রি করতে পারি না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ওএমএসের গাড়ি যায়, তারা চাল বিক্রি করতে পারে না, ডিলাররা এক টনও চাল তুলছে না। কোনো গ্রাহক নেই। মোটা চাল খারাপ তো কিছু না। পুষ্টির দিক দিয়ে ভালো।
সবজির দামের বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেন, শীতকালীন সবজির বাজার কেবল শুরু হয়েছে। আর এখন সবজির দামও বেশি। বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরিও অনেক বেশি, সে পরিপ্রেক্ষিতে কিছুটা দাম বাড়ছে। এসব যারা চাষ করেন, তারা তো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ঘাম-রক্তকে ফসলে রূপান্তরিত করেন। সবজির দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে দাম কমে যাবে বলেও মন্তব্য তার।