৪১ টয়লেটের জন্য ১ জন সুইপার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোর শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শৌচাগারের জরাজীর্ণ অবস্থা, ময়লা-দুর্গন্ধ, নিয়মিত পরিষ্কার না করা ও ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন পার করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা বলছে, জনবল সংকটের কারণেই শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, ক্যাম্পাসে ১১টি অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল রয়েছে ৮টি। এছাড়াও রয়েছে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, চিকিৎসা কেন্দ্র ও চারতলাবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ। এসব ভবনে শৌচাগার রয়েছে সর্বমোট ৬৮৬টি। এর মধ্যে অনুষদ ভবনে ২৮টি, বিজ্ঞান অনুষদে ২৮টি, মীর মশাররফ অ্যাকাডেমিক ভবনে ৩০টি, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ৪০টি এবং রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে রয়েছে ৫০টি। এছাড়াও দুটি প্রশাসনিক ভবনে ২২টি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও চিকিৎসা কেন্দ্র মিলিয়ে রয়েছে ২৬টি শৌচাগার। অন্যদিকে আটটি আবাসিক হলে শৌচাগার রয়েছে ৪৬২টি। এর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১০১টি, শেখ রাসেল হলে ৩৫টি, সাদ্দাম হলে ৬৬টি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৫৫টি, লালন শাহ হলে ৫৫টি, শেখ হাসিনা হলে ৬০টি, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৫০টি ও খালেদা জিয়া হলে রয়েছে ৪০টি শৌচাগার। এই ৬৮৬টি শৌচাগার পরিষ্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত সুইপার রয়েছে মাত্র ১৭ জন।

এসব ভবনের মধ্যে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের শৌচাগারগুলো পরিষ্কার থাকলেও সমস্যা রয়েছে অন্য ভবনগুলোতে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, ছাত্রীদের আবাসিক হল ও ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিতে)। এখানখার শৌচাগারগুলোর

দরজা, পানির ট্যাব ও বদনা নেই বললেই চলে। এছাড়াও বেসিনগুলো ব্যবহার না করায় ময়লা পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ছাত্রীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২৮টি শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকলেও মেয়েদের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি শৌচাগার। একই অবস্থা ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের। সেখানে মেয়েদের জন্য শৌচাগার রয়েছে মাত্র তিনটি। বিজ্ঞান অনুষদেরও একই চিত্র। এছাড়াও রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের মেয়েদের জন্য শৌচাগার থাকলেও কোনো কমনরুম নেই বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা।

এ বিষয়ে একাধিক ছাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনুষদ ভবনের শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে আমাদের দুর্গন্ধ সহ্য করে শৌচাগারগুলো ব্যবহার করতে হয়। এ থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন আমাদের।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস জানায়, অনুষদ ভবন, বিজ্ঞান ভবন, মীর মশাররফ হোসেন অ্যাকাডেমিক ভবন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন, গ্রন্থাগার ও প্রকৌশল অফিস, জিমনেশিয়াম, শেখ রাসেল হল ও দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবনগুলোর শৌচাগারগুলো পরিষ্কারের জন্য একজন করে সুইপার কাজ করে। এছাড়াও প্রশাসন ভবন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ রাসেল, সাদ্দাম হোসেন, শহীদ জিয়াউর রহমান, লালন শাহ, শেখ হাসিনা, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও খালেদা জিয়া হলের শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করে দুই থেকে তিনজন সুইপার। কোনো হলের কর্র্তৃপক্ষ আবার দিনমজুরি হিসেবে সুইপার নিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করেন।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের শৌচারগুলো পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা বিষ্ণু কুমার বলেন, ‘একার পক্ষে একটি অনুষদ ভবনের সব শৌচাগার পরিষ্কার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। যদি দুজন করে দেওয়া হয় তাহলে প্রতিনিয়ত শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।’

আবাসিক হলে অবস্থানরত আদনান আহমেদ নামে এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলের শৌচাগারগুলো সপ্তাহে একদিন পরিষ্কার করা হয়। ফলে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে ময়লা-দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। আবার অনেক শৌচাগারের দরজাও থাকে না। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করা উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের উপপ্রধান অফিসার ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকলে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এছাড়াও মশার কামড় থেকে ডেঙ্গুজ¦রেরও সম্ভাবনা থাকে।’

এস্টেট শাখার উপ-রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২২ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সুইপার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এ সেক্টরে জনবল সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় শৌচাগারগুলো নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। তবুও আমরা নিয়োগপ্রাপ্ত সুইপারের পাশাপাশি দিনমজুরি হিসেবে সুইপার দিয়ে পরিষ্কারের চেষ্টা করি। সুইপার নিয়োগ দিলে এ সমস্যার সমাধান হবে।’