শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস গতকাল রবিবার সর্বনিমœ তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। যা দেশে এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবে দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনটি ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল। দিনে রাতের তাপমাত্রার হেরফেরের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৭ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, পঞ্চগড়ে প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমছে। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। জেলায় দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও সূর্য ডোবার পর হিমেল বাতাস বইতে শুরু করায় অনুভূত হয় প্রচণ্ড শীত। আগামীতে জেলায় শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। 

গত বছরের ৮ জানুয়ারি দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি রেকর্ড করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। যা ছিল দেশের ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রম্নয়ারি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দুই দশমিক আট ডিগ্রি রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, রবিবার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি ডিসেম্বরে গড় তাপমাত্রা কমবেশি এমনই থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের প্রধান তৌহিদুল বারী বাবু জানান, তাপমাত্রা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে শীত নামছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রকৃতি বিরূপ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে অসময়ে শীত কিংবা গরম পড়ছে।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মন্ত্রণালয় থেকে ২১ হাজারের বেশি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এগুলো ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ছয় হাজার তিনশ কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। এগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।