বৈশ্বিক ক্ষুধা ও অপুষ্টির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। এ সূচকে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের পেছনে আছে ভারত। মানবিক সহায়তা নিয়ে কাজ করে এমন বৈশ্বিক দুটো সংস্থার তৈরি করা ১১৭টি দেশের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা যাচ্ছে।
কৃষিজমি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়া, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনে শীর্ষে বাংলাদেশ।
গতকাল সোমবার কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ২০১৯ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশে সার্বিকভাবে উন্নতির দিকেই রয়েছে। বাংলাদেশ শিশু মৃত্যু হ্রাসে ভালো করেছে এবং অন্যান্য সূচকে বাংলাদেশ ভালো করবেই। পুষ্টিহীনতা, শিশু খর্বাকার এবং শিশু মৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে বাংলাদেশে। অর্থনৈতিক বিকাশ, পিতামাতার শিক্ষায় এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাফল্যে, স্যানিটেশন এবং জনতাত্ত্বিক উন্নয়নের ফলে দেশে খর্বাকার শিশু, শিশু মৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য একটি চেইন, এখানে কৃষক ভোক্তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাপারগুলো জড়িত।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন লক্ষ্য আধুনিক কৃষি, বাণিজ্যিক কৃষি এবং নিরাপদ কৃষি। সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সরকার যেকোনো মূল্যে তা করবে। শহরের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। মোট স্কোর গতবারের ২৬ দশমিক ১ থেকে কমে হয়েছে ২৫ দশমিক ৮। তারপরও বাংলাদেশ বৈশ্বিক অবস্থানে দুই ধাপ পিছিয়েছে, কারণ অন্যদের উন্নতি ঘটছে আরও দ্রুতগতিতে। বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারত ১০২, পাকিস্তান ৯৪, নেপাল ৭৩, মিয়ানমার ৬৯ এবং শ্রীলঙ্কা ৬৬তম অবস্থানে রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. এসএম মোস্তফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পুষ্টি কাউন্সিলের মহাপরিচালক ডা. শাহ নেওয়াজ প্রমুখ।