৫ সোনায় ইতিহাসের সেরা সাফল্য

 ১৯৯৫ সালে চেন্নাই সাফ গেমসে বাংলাদেশ জিতেছিল ৭টি স্বর্ণপদক। এতদিন সেটাই ছিল দেশের বাইরে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। ফেন্সিংয়ে ফাতেমা মুজীবের সোনা জয়ের মধ্য দিয়ে সেই সাফল্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। আর আরচারির দলগত ইভেন্টের ৬ স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে সেটাকে ছাপিয়ে যায়। গতকাল জেতা পাঁচ সোনার পদকে সাফল্যের ইতিহাস নতুন করে লিখলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০১০-এর ঢাকা গেমসে সর্বোচ্চ ১৮ সোনার পদককে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ৯ম দিন শেষে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক সংখ্যা ১৯। আজ শেষ হচ্ছে ১০দিনব্যাপী এই ক্রীড়াযজ্ঞ।

নতুন ইতিহাস গড়তে সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশের আরচারদের। আগের তিন আসরে এই ডিসিপ্লিন থেকে বাংলাদেশ ১২টি পদক জিতলেও তা সোনালি ছিল না। এবার সেই তীরন্দাজরাই জিতে নিয়েছেন ১০ ইভেন্টের সবগুলো সোনা। আরচারিতে ভারত ছিল না বলে আগেভাগেই ইঙ্গিত মিলছিল বড় কিছু হবে। তাই বলে শতভাগ সাফল্য ধরা দেবে সেটা কেউই ভাবেনি।

অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও নেপালের প্রতিযোগীদের কোনো অঘটন ঘটারই সুযোগ দেননি রোমান-ইতিরা। আগের দিনের ছ’টি দলগত পদকের সঙ্গে কাল যোগ করেছে চারটি একক পদক। সব মিলিয়ে এক ইভেন্টে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড গড়েছেন আরচাররা। ছেলেদের রিকার্ভ এককে রোমান সানার সোনা জয়ের মধ্য দিয়েই ঢাকা গেমসের ১৮ সোনার পদক ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। কয়েক ঘণ্টা বাদে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ^বিদ্যালয়ে ক্রিকেট মাঠে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সেরা সাফল্যের ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট দল। আরচারির মতো ক্রিকেটেও এবার বাংলাদেশ পেয়েছে শতভাগ সাফল্য। আগের দিন পোখারায় শ্রীলঙ্কাকেই ২ রানে হারিয়েছিলেন মেয়ে ক্রিকেটাররা।

আরচারির পরেই সফলতা বিবেচনায় আসবে কারাতের নাম। গেমসের তৃতীয় দিনে কারাতে থেকে বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি সোনার পদক। আর ক্রিকেটের মতো দুটি সোনার পদক উপহার দিয়েছেন ভারোত্তোলকরা। আর একটি করে সোনার পদক এসেছে তায়কোয়ান্দো এবং ফেন্সিং থেকে। এমন সাফল্যের পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। অতীত সাফল্যকে পেছনে ফেলার তৃপ্তি আছে। কিন্তু অনেক ইভেন্টেই কাক্সিক্ষত সাফল্য না আসাটা তাদের ভাবাচ্ছে। বিওএ’র সহ-সভাপতি এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেন, ‘অতীতের সাফল্যকে পেছনে ফেলায় আমরা সবাই খুশি। কিন্তু স্বর্ণপদকের সংখ্যাটা আরও বাড়ানো কেন গেল না সেটাই এখন আমাদের বড় ভাবনা। দেখুন এবার আমরা অনেকগুলো রুপা জিতেছি। সেগুলো কেন স্বর্ণ হলো না, এটা আমরা খতিয়ে দেখব। একই সঙ্গে রুপাকে স্বর্ণে রূপ দিতে এখন থেকেই আমাদের কাজে নেমে পড়তে হবে।’

বিওএ’র কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল। তার ফেডারেশন এবার দিয়েছে সর্বোচ্চ সাফল্য। যা তারা পেয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বছরব্যাপী অনুশীলন, আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণের ফলে। তাই এখন আরচারি ফেডারেশন হয়ে উঠেছে অন্যদের জন্য বড় দৃষ্টান্ত। চপল বলেন, ‘আসলে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে সফল হওয়া সম্ভব। আমরা এই সাফল্য পেয়েছি একটা সুনির্দিষ্ট পথে হেঁটে। এর পেছনে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তার ছিল ঐকান্তিক চেষ্টা। এই সাফল্য আমাদের আরও ওপরে যেতে সহায়তা করবে।’

সাফল্যের পাশাপাশি এবারের ব্যর্থতাগুলো ঢেকে রাখারও সুযোগ নেই। এবার ২৫টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে কেবল ৭টি ডিসিপ্লিন থেকে বাংলাদেশ জিতেছে সোনার পদক। শুটিং, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, কাবাডির মতো খেলাগুলো থেকে আসেনি কোনো সেরা সাফল্য। অথচ টানা আড়াই বছর প্রস্তুতি নিয়ে ঠিকই পঞ্চাশের কাছাকাছি সোনা জিতে নিয়েছে নেপাল। অনেক কম ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে ভারত এবারও জিতেছে একশর’ও বেশি সোনার পদক। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানও বেশ এগিয়ে বাংলাদেশের থেকে। তাই সাফল্যের তৃপ্তি যেমন আছে, তেমনি আছে ব্যর্থতার হতাশা।