বিপিএলকে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ মানছেন মোসাদ্দেক

শুরু হয়ে যাচ্ছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। বুধবার চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও সিলেট থান্ডারের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাঠের লড়াই। সিলেটকে এবার নেতৃত্বে দেবেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

ঘরোয়া ক্রিকেটে এর আগেও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে ২৪ বছর বয়সী মোসাদ্দেকের। বিপিএলে অধিনায়ক হিসেবে দলকে আসরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় তার। একই সঙ্গে ব্যাটসম্যান হিসেবে এই আসরকে নিজেকে প্রমাণের ক্ষেত্র হিসেবেও মানছেন তিনি। লক্ষ্য স্থির করেছেন- ব্যাটিংয়ে নিজেকে প্রমাণ করে জাতীয় দলের ব্যাটিং অর্ডারে ওপরের দিকে জায়গা করে নেওয়ার।

জাতীয় দলে সাধারণত লোয়ার মিডলঅর্ডারে ব্যাটিং করেন মোসাদ্দেক। সাত এমনকি আট নম্বরেও ব্যাট করতে হয় তাকে। বেশির ভাগ সময়ই তার কাজ হয় শেষ দিকে দ্রুত রান তোলা। কখনো কখনো ব্যাটিংয়ের সুযোগটাও আসে না। আবার যে সুযোগটা আসে, তাতে সেভাবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগটাও কম। পরিস্থিতি মেনে দলের চাহিদা পূরণেই নজর দিতে হয়। কখনো সফল হন, কখনো ব্যর্থ।

ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য পাঁচ-ছয়ে ব্যাটিং করেন মোসাদ্দেক। বিপিএলেও তাকে সেই জায়গাতেই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মোসাদ্দেক বলছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি চার-পাঁচেই ব্যাটিং করার চেষ্টা করি। জাতীয় দলে এমন সুযোগ মেলেনি। বিপিএলে ভালো করলে কোচ-নির্বাচকেরা হয়তো জাতীয় দলে ওপরে ব্যাটিং করানোর বিষয়ে চিন্তা করবেন। বিপিএলে কোথায় ব্যাট করব এখনো জানি না। কোচ-ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা হয়েছে, হয়তো চার বা পাঁচেই করব। এটা আমার জন্য বড় সুযোগ। আমি মনে করি নিজেকে এখানে দেখানোর সুযোগ আছে।’

সিলেট থান্ডারে বিদেশি কোটায় আছেন শ্রীলঙ্কার জীবন মেন্ডিস, আফগানিস্তানের নাভিন-উল-হক, শফিকুল্লাহ শাফাক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চার্লসের মতো তারকারা। দেশিদের মধ্যে মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল ইসলাম অপু, সোহাগ গাজীদের মতো পরিচিত মুখ।

নিজের দল কতটা ভারসাম্যপূর্ণ এমন প্রশ্নে মোসাদ্দেকের উত্তর, ‘বিদেশি ও স্থানীয় খেলোয়াড় মিলে সবাই আজ অনুশীলন করলাম। আমার মনে হয় আমরা ভালো একটা দল। কাল ভালো একটা ম্যাচ খেলব ইনশা আল্লাহ। এখানে সব দলই ভালো। কারো বিদেশি খেলোয়াড় ভালো, কেউ আবার দেশি খেলোয়াড় ভালো নিয়েছে। আমি মনে করি সব দলই একইরকম।’

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেনদের চট্টগ্রামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মিশন শুরুর আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী লাগল মোসাদ্দেককে। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য ইনজুরির কারণে থাকছেন না প্রথম দুই ম্যাচে।

মোসাদ্দেক নিজেদের প্রথম ম্যাচ নিয়ে বলছেন, ‘প্রথম থেকেই সবাই জানি এটা চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্ট। অধিনায়ক হিসেবে মনে করি আমাদের দলের জন্যও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমরা জেতার জন্যই নামব। জেতার চ্যালেঞ্জই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ বিদেশিদের পাশাপাশি সিলেটের স্থানীয়রাও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন মোসাদ্দেক।

অধিনায়ক হিসেবে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘যে দলের হয়েই খেলি ভালো কিছু করার চেষ্টা করি। আমার চেষ্টা থাকবে সিলেটকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার।’