ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেই উপহার দিয়েছেন ৮০টিরও বেশি চলচ্চিত্র। বেশিরভাগই সফল। সিনেমার জুটি থেকে হয়েছিলেন বাস্তবের জুটিও। সেই সম্পর্ক এখন আর নেই। কিন্তু অপু বিশ্বাস হাঁটছেন নিজস্ব পথে। সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি
এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আমার সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা পুত্র আব্রাহাম খান জয়কে ঘিরে। ঢাকা শহরে একটি সন্তানকে সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে মানুষ করতে অভিভাবকের অনেক কষ্ট করতে হয়। অনেক দায়িত্ব নিতে হয়। আমার তো কপাল খারাপ। সিঙ্গেল প্যারেন্ট হিসেবে জয়কে মানুষ করছি। তাই বাবা-মা, সব দায়িত্বই আমাকে নিতে হয়। তার ওপর আমি ওয়ার্কিং মাদার। সব মিলিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেই দিন কাটছে। তবে আমি এ নিয়ে কখনো মন খারাপ করি না। সন্তানের জন্যই তো সংসার থেকে শুরু করে অনেক কিছু ত্যাগ করলাম। তাই তাকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য যা যা করতে হয় আমি করব। জয়ের জন্য হাজার পরিশ্রম করাটাও আমি উপভোগ করি।
‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ মুক্তি পাচ্ছে না কেন?
দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ ছবিতে অভিনয় করেছি, এটা সবাই জানেন। পুরো কাজ কমপিস্নট করে দিয়েছি। এখন ছবিটি শুধু মুক্তির অপেক্ষায়। ভালো সময় দেখেই পরিচালক সিনেমাটি মুক্তি দেবেন। কারণ, পরিচালক থেকে শুরু করে আমি ও আমার নায়ক বাপ্পী চৌধুরীর এই সিনেমা নিয়ে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। আশা করছি রিয়াজ ভাই ও শাবনূর আপু অভিনীত ‘শ^শুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ সিনেমাটি সে সময় যেমন হিট করেছিল, সেই সিনেমার সিক্যুয়েল হিসেবে আমাদের সিনেমাটিও দারুণ ব্যবসা করবে। আসলে সিনেমাটিতে বিনোদনের সব ধরনের উপকরণই আছে। ভালো গল্প, পারিবারিক আমেজ, দেশি গল্প, আধুনিক নির্মাণ, গান, পোশাক, সেট– সবই ভালো। আমি তো মনে করি বাপ্পী আর আমার জুটি দেখার জন্যও অনেক দর্শক হলে আসবেন (হা হা হা)।
নতুন সিনেমাগুলোর কী খবর?
সম্প্রতি কলকাতার একটি লোকাল প্রডাকশনে কাজ করে এলাম। বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নচিকেতার লেখা গল্প অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমাটির নাম ‘শর্টকাটে বড়লোক’। সিনেমাটির শু¨টিং ও ডাবিং শেষ। এটিও অচিরেই মুক্তি পাবে। কলকাতায় এখনো আমার একটি সিনেমাও মুক্তি পায়নি। কিন্তু মজার বিষয় হলো– এরই মধ্যে সেখানে আমার অনেক ভক্ত তৈরি হয়েছে। আমার আর শাকিবের দেশি সিনেমাগুলো ইউটিউবে দেখেই যে এই ভক্ত তৈরি হয়েছে সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। এজন্য সেখানকার বিভিন্ন স্টেজ শোতে পারফর্ম করার জন্য আমাকে ডাকা হয়। সব সময় তো আর অন্য একটি দেশে গিয়ে শো করা যায় না। তাই ভালো কোনো শো হলে করি। সম্পªতি একটি শো করে এসেছি কলকাতা শহরের বাইরে। ‘শর্টকাটে বড়লোক’-এর পর নতুন আর কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হইনি।
শুনলাম ব্যবসায় মন দিতে চাইছেন?
ঠিকই শুনেছেন। ইতিমধ্যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছি। গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নিকেতনে (ব্লক-বি, রোড-৩, হাউজ-৫৮) ‘এপিজে ফ্লোর’ নামে নতুন এই প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন হয়েছে। এখানে বিউটি পার্লার, ফটো স্টুডিও, মিটিং ও ড্যান্স ফ্লোর থাকছে। এখন অনেক ছেলেমেয়ে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। যেমন– ফটোগ্রাফি, বিউটিশিয়ান, কোরিওগ্রাফি। আমরা তাদের একটা কাজের ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা করেছি। আমাদের এখানে সব আয়োজন থাকছে। কেউ চাইলে ন্যূনতম খরচে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।