ফিনল্যান্ডের রাজনীতিতে নারীরা বেশ সক্রিয়। চলতি শতকেই তৃতীয় নারী হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হলেন সানা মিরেলা ম্যারিন। শুধু তা-ই নয়, মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এই দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। এর আগে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সানা অল্প বয়সেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে জনমনে সাড়া ফেলেছেন। সানা ম্যারিনের ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবন নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
যে পথে প্রধানমন্ত্রী
মাত্র ৩৪ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফিনল্যান্ডের সানা ম্যারিন। মূলত নারীদের নেতৃত্বে থাকা একটি কোয়ালিশন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সানা। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত
থাকার পর নতুন এই দায়িত্বে অর্পিত হলেন তিনি।
ইতিপূর্বে ফিনল্যান্ডের অর্থনীতিতে অচলাবস্থার কারণে ডাক বিভাগের ৭০০ কর্মীর মজুরি কমানোর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ধর্মঘট শুরু হয়েছিল সদ্য বিদায় নেওয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টি রিনের সময়। রিনে সে সময় থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এমন সময় তার জায়গায় সবার পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন একই দলের আইনপ্রণেতা ও সহসভাপতি সানা ম্যারিন। গত শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন রিনে এবং করোনারি
থ্রমবসিসের লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে। সে সময় তিনি নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার থেকে বিরত ছিলেন। তার জায়গায় সব কাজ দায়িত্বের সঙ্গে পালন করেন সানা। সুস্থ হওয়ার পর দলের জয়ের জন্য কাজে ফেরেন রিনে। আবার দায়িত্ব নিলেও বারবার ডাক বিভাগের ধর্মঘটের কারণে চাপের মুখে পড়ছিলেন তিনি। ধর্মঘট মোকাবিলাকে কেন্দ্র করে আস্থা ভোটে হেরে গত ৩ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। রিনের পদত্যাগের পর সানা ম্যারিনকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নেয় তার দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। খুবই অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন তিনি। রাজনীতির মাঠে অল্প সময়েই বিশ্বাস ফিরিয়ে এনে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠবেন সানা ম্যারিনÑ এমনটাই আশা করছেন দেশটির জনগণ। বর্তমানে ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করছে। নতুন সরকার প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর চলতি মাসের ১২-১৩ তারিখে ব্রাসেলসে হতে যাওয়া ইইউ নেতাদের সম্মেলনেই ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও সভাপতি হিসেবে তিনি এ সম্মেলনের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
রাজনীতিতে যেভাবে যুক্ত হলেন
১৯৮৬ সালের ১৬ নভেম্বর ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে জন্মগ্রহণ করেন সানা মিরেলা ম্যারিন। তার বেড়ে ওঠা ফিনল্যান্ডের এসপো আর পিরকালা শহরে। ২০০৪ সালে পিরকালা হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে দক্ষিণ ফিনল্যান্ডের তেমপারেতে চলে আসেন সানা। ২০০৭ সালে তেমপার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশাসনিক বিজ্ঞানের ওপর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১০-১২ সাল পর্যন্ত তিনি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ইয়ুথে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১২ সালে তিনি দলের অন্যতম প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেলেও নির্বাচিত হতে পারেননি। সে বছরই ২৭ বছর বয়সী সানা তেমপারের সিটি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৩-১৭ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব তিনি পালন করে যান। ২০১৭ সালে তিনি ফের সিটি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৩-১৬ সাল পর্যন্ত পিরকানমা অঞ্চলের কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সেকেন্ড ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সানা। ২০১৫ সালে ৩০ বছর বয়সে পিরকানমা থেকে ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টে মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন তিনি। চার বছর পর ফের নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালের ৬ জুন পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
রেইনবো পরিবার
অন্যান্য আট-দশটা ছেলেমেয়ের মতো স্বাভাবিক জীবন ছিল না সানার। বড় হওয়ার জন্য তাকে নিত্যদিন সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে। স্কুলের বাকি ছেলেমেয়ের মতো সানার অভিভাবক বাবা-মা ছিলেন না। তার অভিভাবক ছিলেন দুজন মা। সানা ছিলেন রেইনবো পরিবার অর্থাৎ দুই মায়ের এক সন্তান। তিনি তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। দুজন মা হলেও তারা আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে সানাকে বড় হতে হয় একজন মায়ের কাছে। সে সময় সানাকে অর্থাভাবে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। হাতখরচ থেকে শুরু করে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় খরচের জন্য সানা নানা ধরনের কাজ করেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে একটি বেকারি শপে কাজ করেন তিনি। হাইস্কুলে পড়া অবস্থায় হাতখরচের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ম্যাগাজিন বিলি করতেন। সমবয়সী ছেলেমেয়েদের মতো স্বাভাবিক পরিবার না হওয়ায় সানা কখনো কারও সঙ্গে পরিবার নিয়ে গল্প করতে পারতেন না। বরাবরই তিনি নিজেকে ‘অস্তিত্বহীন’ ভাবতেন। কিন্তু সানার মা তাকে সব সময় যেকোনো কাজে সমর্থন জুগিয়েছেন। তিনি সানাকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন সানা যা করতে চান, যা করতে ভালোবাসেন তাই তিনি করতে পারেন। মায়ের বিশ্বাসেই সানা তেমপার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে আসেন। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র সদস্য যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করেছেন। সানার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল মার্ক্স রাইকনেনের। ২০১৮ সালে সানার কোলজুড়ে আসে তাদের প্রথম সন্তান।
ফিনল্যান্ডে সানা পরিচিত ‘রেইনবো চাইল্ড’ হিসেবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি বেশ আগে থেকেই পরিচিত হলেও কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করার কারণে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন একটি ছবি তিনি শেয়ার করেন ইন্সটাগ্রামে। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘এই সপ্তাহেই সম্ভবত সে (সানার সন্তান) কোনো রকম বাধা ছাড়াই অনেকক্ষণ খাবার খেতে পারল। এর অর্থ হচ্ছে আমাদের পরিবার খুব অল্প সময়ের জন্যই ঘুমাতে পারে। রাতে যখন আমি ঘুমাই তখন মা আর মার্ক্স মিলে আমার সন্তানকে দেখে রাখে।’ অন্য একটি পোস্টে দেখা যায়, অনেক বড় একটি চামচে আইসক্রিম তুলে খাচ্ছেন সানা। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজেকে এবং পরিবারকে কিছুটা হলেও সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন ছবিগুলোর অর্থ অন্তত তাই বোঝায়। সংসার এবং দেশ দুই জায়গাতেই সমান দায়িত্ব পালনের জন্যই তরুণরা তাকে বেশি পছন্দ করে।
সাড়া-জাগানো বিষয়
ফিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণই বেশি। দেশটির সদ্য অভিষিক্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। এ ছাড়া চারটি ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেও আছেন নারী সদস্যরাই। ফিনল্যান্ডে লিঙ্গবৈষম্য বেশ আগে থেকেই আলোচনার বিষয় আর নারীদের রাজনীতিতে আসার বিষয়টিও বেশ আগে থেকেই আলোচিত। কয়েক দশক ধরেই গবেষকরা লক্ষ করেছেন, অনেক দলেরই উচ্চপদে তরুণ নারীদের অগ্রাধিকার বেশি। এমনকি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সারির নেতৃত্বের বেলাতেও তাই। এমনই এক তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছিলেন ‘সেন্টার ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি ইনফরমেশন’-এর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার রিটা সিউকোলা। এই শতাব্দীতে দুজন নারী এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হলেও খুব বেশি দিন তারা দায়িত্বে বহাল ছিলেন না।
নারীরা বিশেষ করে তরুণ নারীরা ফিনিশ রাজনীতিতে অনেক বেশি সক্রিয়। বর্তমানে দেশটির ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণই চায়। এই ধারণাটির প্রবর্তন হয় ২০১৫ সালে। সে সময় জুহা সিপিলা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার সময়ে মাত্র ৩৬ শতাংশ মন্ত্রী ছিলেন নারী। এই বৈষম্য সবার মধ্যে ভাবনার উদ্রেক করে।
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়া ৩৪ বছর বয়সী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দলের সদস্য সানা ম্যারিনের আগে এই পদে বহাল ছিলেন সাবেক ট্রেড ইউনিয়নবিদ অ্যান্তি রিনে। গত ৩ ডিসেম্বর অনাস্থা প্রস্তাব এনে ক্ষমতাসীন দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের জোটের মূল অংশীদার সেন্টার পার্টি অ্যান্তি রিনের ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে তিনি পদত্যাগ করেন। আর্থিক অচলাবস্থা নিয়ে ডাক বিভাগের ধর্মঘট মোকাবিলাকে কেন্দ্র করে আস্থা ভোটে হেরে মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
আলোচনায় সানা ম্যারিন
বেশ কিছু বছর ধরেই সানা ম্যারিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। এত দিন শুধু ফিনল্যান্ডের আলোচনার শীর্ষে থাকা সানা এবার নজরে এসেছেন পুরো বিশ্বের। মাত্র ৩৪ বছর বয়সী একজন নারীর এত বড় দায়িত্বপ্রাপ্তি স্বভাবতই সবাইকে নারীর অগ্রাধিকার বিষয়ে সচেতন করে তুলেছে। এত অল্প বয়সে এত বড় দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন সানা, এমন প্রশ্নই তাকে করেছিলেন সাংবাদিকরা। সেই প্রশ্নের জবাবও তিনি দিয়েছিলেন বেশ গোছানোভাবেই। সানা বলেছিলেন, ‘পুনরায় বিশ্বাস অর্জনের জন্য আমাদের একত্রে অনেক কাজ করতে হবে। বয়স বা লিঙ্গ নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি। আমি শুধু ভেবেছি কেন আমি রাজনীতিতে এসেছি, কেন আমি দলের আস্থাভাজন হলাম। এই ভাবনাই আমাকে সচেতন করেছে নিজের দায়িত্ব নিয়ে।
যথাযথভাবে আমি নিজের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।’
কূটনীতিকরাই বলছেন, সানার সামনে এখন বিস্তর চ্যালেঞ্জ। ডাক বিভাগের ৭০০ কর্মীর বেতন ছাঁটাই নিয়ে এখনো অচলাবস্থা রয়েছে এই নর্ডিক দেশটির একাংশে। এখন রিনের উত্তরসূরি হিসেবে যাবতীয় পরিস্থিতির সামাল দিতে হবে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীকে। জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ফিনল্যান্ডের ওপরও গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর চাপ রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ রক্ষায় দায়বদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েই সানা বললেন, ‘দেশ তথা পুরো বিশ্বের আস্থা অর্জনের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। এত অল্প বয়সে প্রধানমন্ত্রী হব এমনটি ভাবিনি। সরকারের আগামী দিনের কাজের তালিকা শেয়ার করেছি, যা আমাদের করতে হবে।’
কূটনীতিকদের একাংশ বলছেন, তরুণ নেত্রীকে ঘিরে উৎসাহের মেজাজ ধরা পড়েছে দেশের একটা বড় অংশে। ফিনল্যান্ডে এ মুহূর্তে যে পাঁচটি দলের জোট সরকার, তার সব কটিরই
নেতৃত্বে আছেন নারীরা এবং তাদের মাঝে চারজনের বয়সই ৩৫ বছরের নিচে, বাকি একজনের বয়স ৫০-এর ওপরে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ম্যারিন, বামপন্থি জোটের নেতৃত্বে ৩২ বছর বয়সী লি অ্যান্ডারসন, মধ্যপন্থি জোটে ৩২ বছর বয়সী ক্যাট্রি কালমানি, গ্রিন লিগে ৩৪ বছরের মারিয়া ওহিসালো এবং সুইডিশ পিপলস পার্টি অব ফিনল্যান্ডের নেতৃত্বে আছেন ৫৫ বছর বয়সী অ্যানা-মাজা হেনরিকসন। এদের মাঝে সানার চেয়েও কম বয়সী ৩২ বছর বয়সী ক্যাট্রি কালমানি সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
ফিনল্যান্ডের রাজনীতিতে এ মুহূর্তে যে পরিমাণ অস্থিতিশীল অবস্থা চলছে, তার জন্য রাজনীতির মাঠে একদম নতুন কোনো মুখের প্রয়োজন ছিল বলেই মনে করেন বিশ্লেষক এবং কূটনীতিকরা। ফিনল্যান্ডের জাতীয় রেডিও চ্যানেলের রাজনৈতিক সাংবাদিক ক্রিস্টিনা টকি বলেন, ‘দিন দিন রাজনীতি কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। সপ্তাহ, মাসের পুরোটা সময় কাজ করতে পারবে আমাদের রাজনীতিতেÑ এমন কিছু তরুণ প্রয়োজন। সব সময় সক্রিয় থাকবে এবং উল্টোপাল্টা কিছু বলবে নাÑ এমন কিছু নতুন মুখ আমাদের দরকার।’
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হচ্ছে ১২ জন নারী এবং ৭ জন পুরুষ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে।
কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বের সর্ব কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ডটি সানা ম্যারিনের আগে ছিল ৩৫ বছর বয়সী ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী অলেকসি হনচারুকের দখলে। চলতি বছরের মে মাসেই তিনি এই দায়িত্ব পান। ফিনিশ ইতিহাসে সানার আগে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে নিযুক্ত হয়েছিলেন মধ্যপন্থি জোটের ৩৬ বছর বয়সী এসকো আহো। এই তালিকায় আরও যুক্ত আছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন (৩৬), এল সালভাদোরের প্রেসিডেন্ট নায়ীব বুকেল (৩৮) এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাকিন্দা অর্ডার্নের (৩৯) নাম। সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-৪০ জেসিন্ডা আর্ডের্নের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়ে গেছে সানার। জেসিন্ডার মতো তিনিও এক সন্তানের মা এবং সংসার সামলেই তাকে দেশ সামলানোর মতো গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে।