পিআরআইয়ের সেমিনারে আবুল মাল আবদুল মুহিত

টাউনশিপ হলেও সুশাসন হয়নি

বাংলাদেশে উন্নয়নের সঙ্গে নগরায়ণও বাড়ছে। এখন সময় এসেছে শহরগুলোকে ‘স্মার্ট সিটিতে’ রূপান্তর করার। এতে নগরে দূষণ কমবে। শ্রমঘণ্টা বাঁচবে। নগর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। এজন্য সবার আগে শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সেবাদাতা সংস্থাগুলোর জনবলকে প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়ার কাজে দক্ষ করে তুলতে হবে। শুধু আধুনিক পরিকাঠামো দিয়ে নগরকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করা যাবে না। এজন্য পরিকাঠামোতে বিনিয়োগের আগে মানব উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।

গতকাল বুধবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘চায়না স্মার্ট সিটির অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশে বর্তমানে শহরের পরিধি বাড়ছে। বাংলাদেশ ‘টাউনশিপ কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছে। কিন্তু সুশাসন, বিকেন্দ্রীকরণ ততটা হয়নি। এগুলো না হলে স্মার্ট সিটি বলতে যা বোঝায় তা হবে না। স্মার্ট সিটি পরিচালনার জন্য অবশ্যই নগর পরিচালন ব্যবস্থা এক সরকারের অধীনে থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে একই সঙ্গে একাধিক সরকার কাজ করছে। তবে নগরায়ণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের ঝুপড়ি পরিস্থিতি বদলেছে। কোনো শহরকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করতে হলে সেখানেও সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

নগর বিশেষজ্ঞ সেলিম রশিদ বলেন, ঢাকার ব্যবস্থাপনা হতে হবে ঢাকার পরিস্থিতির ওপর বিচার করে। বিশে^র অন্য শহরের আদলে এখানে করতে গেলে লাভ হবে না। এজন্য প্রথমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার উদ্ভাবন দরকার। দরকার বিকেন্দ্রীকরণও। কারণ এত জনগণের চাপ কোনো ব্যবস্থাই ভালোভাবে নিতে পারবে না।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকা শহরের যে পরিমাণ জনগণ বসবাস করছে তাতে স্মার্ট সিটি ব্যবস্থা এখানে জরুরি। কিন্তু এখানে কিছু পরিকাঠামো দিয়ে দিলেই স্মার্ট সিটি হবে না। নতুন কোনো পরিকাঠামোতে নগর স্মার্ট হবে না। শুধু পরিচালনার দক্ষতার অভাবে উত্তর সিটি করপোরেশনে নগর অ্যাপ চালু করে তা পরিচালনা করা যায়নি। সিসিটিভি, স্মার্ট ট্রাফিক লাইট সফল হয়নি। বছরে বছরে রাস্তা কাটা আর নতুন করে বানানোর মতো লোক দেখানো ও টাকা খরচের ব্যবস্থা থাকলে স্মার্ট সিটি হবে না। আগে এসব বন্ধ করতে হবে। এজন্য সরকারের চিন্তায় স্মার্ট হওয়া দরকার।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, স্মার্ট সিটির জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়ন জরুরি। এটি এমন একটি ধারণা যে স্মার্ট সিটি মানে স্মার্ট ফোনের মতো। নিজের হাতেই অনেক কাজ করা যায়।

পিআরআইয়ের পরিচালক সারওয়ার জাহান বলেন, শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ¦ালানি, পানির মতো বিষয় রয়েছে। এগুলো একেকটি একেক সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত। এই সংস্থাগুলোর চিন্তায় স্মার্ট না হলে স্মার্ট সিটি সম্ভব নয়।

সেমিনারের সভাপতি পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগরকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর নির্ভর করছে জনগণ ও নগরের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিতে কতটা সম্পৃক্ত হতে পারছে তার ওপর। সেবা দেওয়া ও গ্রহণ প্রযুক্তিভিত্তিক না হলে স্মার্ট সিটি হবে না। এজন্য প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তিকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।