বেনাপোল চেকপোস্টে যাতায়াতের সময়সীমা বৃদ্ধি

পাঁচ মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে যাতায়াতের সময়সীমা তিন ঘণ্টা বাড়িয়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে একটি নির্দেশনা দেয় জাতীয় রাজস্ব বার্ড (এনবিআর)। গত ৩ জুলাই পাঠানো ওই নির্দেশনায় চেকপোস্ট সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে বলা হয়। এখন তা খোলা রাখা হয় সকাল ৭টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া

হলেও বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের অবহেলায় দীর্ঘ সময়েও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী যাত্রীরা ও বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এনবিআরের ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চিকিৎসা, ভ্রমণ ও বাণ্যিজিক কাজে প্রতিদিন ৭-৮ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। গতকাল বুধবার বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় গিয়ে ভারত-বাংলাদেশ গমনাগমনকারী বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা চেকপোস্টে যাতায়াতের সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও তা এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যাত্রীরা জানান, এনবিআরের ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে তাদের অর্থ ও সময় দুটোরই সাশ্রয় হবে। অনেক সময় ভারতে কাজ শেষে চেকপোস্টে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলে তারা আর সীমান্ত পার হতে পারেন না। তখন বাধ্য হয়ে তাদের হোটেলে রাত কাটাতে হয়। এতে করে তাদের সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হয়।

ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা পাসপোর্টধারী যাত্রী সাজ্জাতুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে কলকাতা থেকে পেট্রাপোল চেকপোস্টের উদ্দেশে রওনা হই। রাস্তায় জ্যামের কারণে পেট্রাপোল চেকপোস্টে এসে পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট। এসে দেখি, চেকপোস্টের গেট বন্ধ। বাধ্য হয়ে চেকপোস্ট থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বনগাঁ শহরে গিয়ে একটি হোটেলে উঠতে বাধ্য হই। পরে সকালে চেকপোস্ট অতিক্রম করি।’

অন্যদিকে ভারতগামী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী কুমিল্লার হোমনার বাসিন্দা জয়ন্ত কুমার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফেরিঘাটে জ্যামসহ বিভিন্ন কারণে বাস সন্ধ্যা ৬টার আগে বেনাপোল এসে না পৌঁছালে আমরা ভারতে যেতে পারি না। তখন বাধ্য হয়ে রাতে হোটেলে থেকে সকালে ভারতে যেতে হয়। এই সমস্যার সমাধান হওয়া খুবই জরুরি।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীসহ সর্বোপরি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে এনবিআরের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি, বেনাপোল চেকপোস্ট সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য। অবশেষে গত জুলাই মাসে এনবিআর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার আদেশ জারি করে বেনাপোল কাস্টম হাউজকে পত্র দেয়। কিন্তু ৫ মাস অতিবাহিত হলেও রাজস্ব বোর্ডের আদেশ বাস্তবায়িত হয়নি। এটা দুঃখজনক।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিন খান পাঠান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যদিও এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। ভারতীয় চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ রাজি থাকলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের জনবলেরও কোনো সংকট নেই।’

অন্যদিকে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’