শাজাহান খানকে ফের ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

পরিবহন শ্রমিক নেতা ও সরকারদলীয় সাংসদ শাজাহান খানকে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরতে আবারও ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যদি

এই সময়ের মধ্যে তিনি জাতির সামনে তথ্য তুলে ধরতে না পারেন তাহলে আমি আইনের পথে হাঁটব।’ নামে-বেনামে পরিবহন খাতে টাকা তোলা হলেও সেই টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয় না বলেও এসময় অভিযোগ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

গত ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চনকে ‘জ্ঞানপাপী’ আখ্যা দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান। ইলিয়াস কাঞ্চনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে বিদেশিদের কাছ থেকে নিরাপদ সড়ক চাই এনজিওর নামে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আসছেন, আপনি কয়টি প্রতিষ্ঠান করেছেন? কয়টি স্কুল করেছেন, কয়জন মানুষকে ট্রেনিং দিয়েছেনÑ আমি এ তথ্য বের করতেছি।’ সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন কোথা থেকে কত টাকা পান, কী উদ্দেশে পান, সেখান থেকে কত টাকা নিজে নেন, পুত্রের নামে নেন, পুত্রবধূর নামে লাখ লাখ টাকা নেনÑ সেই হিসাব আমি জনসম্মুখে তুলে ধরব।’

শাজাহান খানের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে ওই দিনই নিসচার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলে তাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

তবে এই সময়ের মধ্যে শাজাহান খানের কোনো বক্তব্য না পাওয়ায় গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

সেখানে এই পরিবহন শ্রমিক নেতার উদ্দেশে এক গাদা প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরে বছরে বিভিন্ন খাতের নামে যে টাকা তোলা হয় সেই টাকার কত অংশ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করেছেন, কয়টা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন দক্ষ শ্রমিক গড়ার জন্য, কয়টা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য, তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কত অংশ ব্যয় করেছেন সেই টাকার?’

তিনি বলেন, ‘নিজের দুর্বলতা ঢাকতে শাজাহান খান আমার নামে মিথ্যাচার করেছেন। মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে পরিবহন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কারও পক্ষে-বিপক্ষে নই। আমি আপামর মানুষের স্বার্থে কথা বলি। কিন্তু শাজাহান খান বলে থাকেন আমি নাকি সাধারণ মানুষের কাছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কথা বলে নেতিবাচক আবহ তৈরি করি। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি, কবে কখন কোথায় সরাসরি পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি সেটা প্রমাণ করতে হবে। আমি সব সময় কথা বলে আসছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে, বিশৃঙ্খল পরিবেশের বিরুদ্ধে। আর সেটা যদি কারও বিপক্ষে যায় তাহলে কি খুব বেশি অন্যায় হবে?’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সংগঠন শুরুর প্রথম ১২ বছর আমার নিজের অর্থে সংগঠন পরিচালনা করেছি। পরে একটা সাংগঠনিক কাঠামো করে এই সংগঠন পরিচালনা করছি। আমাদের রেজিস্টার্ড সদস্য আছেন প্রায় ১৫ হাজারের মতো, যারা বাৎসরিক এবং মাসিক ফি দেন। এছাড়া আমাদের ১২০টি শাখা সংগঠন আছে, যারা প্রতি দুই বছর অন্তর রিনিউ ফি প্রদান করেন। এছাড়া যখন কোনো অনুষ্ঠান করি তখন বাংলাদেশের যারা ব্যবসায়ী আছেন তারা আমাদের স্পন্সর করেন।’ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।