ছাত্রলীগ নেতার প্রক্সি দিয়ে তরুণের ১ বছরের জেল

শরীয়তপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারীর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এক তরুণ। প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে হাসেম হাওলাদার (২৪) নামে ওই তরুণকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বুধবার বিকেলে চলতি স্নাতক প্রথম বর্ষের চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা চলাকালে জেলা সদরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, শরীয়তপুর সরকারি কলেজের  স্নাতক প্রথম বর্ষের অনিয়মিত শিক্ষার্থী সোহাগ ব্যাপারী। তিনি ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। গত ২৪ নভেম্বর স্নাতক প্রথম বর্ষের চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। সোহাগের পরীক্ষার কেন্দ্র পড়ে স্থানীয় সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে। নিজেকে অসুস্থ দেখিয়ে একাই আলাদা একটি কক্ষে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে কেন্দ্র সচিবের কাছে আবেদন করেন সোহাগ। অসুস্থতার পক্ষে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখে কেন্দ্র সচিব তাকে আলাদা কক্ষে বসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেন। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়াচ্ছিলেন সোহাগ। বুধবার দর্শন পরীক্ষা চলাকালে বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মাহাবুব রহমান কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে প্রকৃত পরীক্ষার্থী সোহাগ ব্যাপারীর পরিবর্তে বহিরাগত হাসেম হাওলাদারকে পরীক্ষা দিতে দেখেন। এ সময় ইউএনও পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে সোহাগ ব্যাপারী বলে পরিচয় দেন হাসেম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও প্রকৃত পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় হাসেমকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন ইউএনও। পরে রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক হাসেম সদর উপজেলার চরপাতানিধি গ্রামের আবদুল জলিল হাওলাদারের ছেলে। পালং মডেল থানা পুলিশ তাকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোহাগ ব্যাপারীর পরিবর্তে হাসেম হাওলাদার নামে এক যুবক প্রক্সি পরীক্ষা দেয়। প্রথমে আমাদের কলেজের অফিস সহায়ক বিষয়টি জানার পর আমাকে জানায়। আমি প্রশাসনকে অবহিত করি। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে হাতেনাতে ধরেন।’

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সোহাগ হাওলাদার আমাদের কলেজের অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে পরীক্ষা দিচ্ছে। অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

ছাত্রলীগ নেতার এ জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মহসিন মাদবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ কোনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেয় না। যে অন্যায় করেছে, তার শাস্তি পাওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলব।’

অভিযুক্ত সোহাগ ব্যাপারীর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।