রাজধানীর বনানীতে চীনা নাগরিক জিয়ানহু গাও (৪৭) খুনের নেপথ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে তার সঙ্গে কার কার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল তদন্তের স্বার্থে সে তথ্য জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ। তদন্তকারী ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বনানী থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে জানান, চীনা ব্যবসায়ী জিয়ানহু গাওকে মঙ্গলবার গভীর রাতের যেকোনো সময় তার বাসায়ই হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুমের জন্য বাসার নিচে খালি জায়গায় মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সকাল হয়ে যাওয়ায় কিংবা লোকজনের উপস্থিতির আশঙ্কা করে একাধিক খুনি ঠিকমতো লাশ মাটিচাপা না দিয়েই পালিয়ে যায়। গত বুধবার পুলিশ বনানীর ২৩ নম্বর রোডের ৮২ নম্বর বাড়ির উত্তর পাশ থেকে জিয়ানহুর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদের কাছে গতকাল তার মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি মতামত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বনানী থানার ওসি নূরে আযম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত বিরোধসহ নানা বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, রাজধানীতে অবস্থানরত চীনা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জং সু হং নামে এক ব্যক্তিকে মামলার বাদী হিসেবে নির্ধারণ করেন। তিনিই বাদী হয়ে গতকাল মামলা করেছেন। এছাড়া নিহত চীনা ব্যবসায়ীর স্ত্রী গতকাল ঢাকা এসেছেন। তিনিও খোঁজখবর নিচ্ছেন।
মামলার বাদী জং সু হং উত্তরায় সুমেক লিয়াজেঁা অফিস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার। এজাহারে তিনি বলেছেন, ‘আমরা গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে গাওয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় তার কয়েক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু কেউই তার খোঁজ দিতে পারেননি। এরপর আমি উত্তরা থেকে বনানীতে তার ফ্ল্যাটে যাই। এ সময় সেখানকার কয়েকজন আমাকে বলেন, ভবনের উত্তর পাশে একজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ও সিআইডিকে জানালে তারা ওই লাশ উদ্ধার করে জানতে পারেন তিনিই জিয়ানহু গাও।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি তাকে তার বাসায় হত্যা করে লাশ ফেলে যায় খুনিরা।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, এ খুনে জড়িত সন্দেহে গত বুধবার যাদের আটক করা হয়েছিল, তাদের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। বাসার ভেতরে খুনের ঘটনা ঘটলেও সেখানকার বেশকিছু আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সকালে কাজের মেয়ে ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খোলা পেয়ে যথারীতি কাজ শুরু করে দেন। তার মনে হয়েছিল, ব্যবসায়ী হয়তো বাথরুমে ঢzকেছেন। এ ফাঁকে তিনি ঘর ধোয়ামোছাসহ বিছানা ও আসবাবপত্র পরিষ্কার করতে থাকেন। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও চীনা ব্যবসায়ীর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তার সন্দেহ হয়। এরই মধ্যে গাড়িচালক ঢোকেন। তারপর তারা দুজনই বাসার মালিককে খুঁজতে শুরু করেন। পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, জিয়ানহু পদ্মা সেতু প্রকল্পে পাথর সরবরাহের কাজ করতেন। এর আগে তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন।