সামাজিক ন্যায়বিচার আর সাম্যের ইশতেহার দিয়েছিলেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। যুক্তরাজ্যকে নিতে চেয়েছিলেন জনকল্যাণের পথে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার রায় দিয়েছেন দ্রুত ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পক্ষে। জয়ী করেছে কনজারভেটিভ পার্টিকেই। বরিস জনসনকে ফিরিয়েছেন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে। দেশটির এবারের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির এই নেতা নিজ আসনে জয় পেলেও তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেবেন না তিনি। করবিন বলেন, ‘লেবারের জন্য এটা খুবই হতাশার রাত। তবে আমরা আশার ইশতেহার দিয়েছিলাম। আগামীতে আমি আর কোনো নির্বাচনে নেতৃত্ব দেব না।’ ভরাডুবির পেছনে মিডিয়ার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মিডিয়া লেবার পার্টির সঙ্গে অনৈতকি আচরণ করেছে।
নিজের নির্বাচনী এলাকা নর্থ আইলিংটনে করবিন বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ৩৬ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ৮ হাজার ৪১৫ ভোট। তবে সারা দেশে প্রত্যাশিত ফল পায়নি তার দল।
এরপরই করবিনের পদত্যাগ চাইতে শুরু করে লেবার পার্টির নেতাদের একাংশ। তবে দলের চেয়ারম্যানের মতে, বিশেষ করে ব্রেক্সিট ইস্যুতে লেবার নীতির বিপক্ষে রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যবাসী। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় গণভোট চেয়েছি। কিন্তু প্রথম গণভোটেই ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আমরা সেটাকে সম্মান করতে পারিনি। ফলে আমাদের এই পরিণতি হয়েছে।’
এদিকে এক টুইটবার্তায় করবিন বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে পার্লামেন্ট ও এর বাইরে সব সময়ই সমাজতন্ত্রের বার্তা পৌঁছে দিতে, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমাজভিত্তিক প্রয়োজন মেটাতে কাজ করে যাব, গুটিকয়েক লোভ মেটাতে নয়।’
তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাদের দলের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে আর আমি আমাদের দলের অর্জন, এর ইশতেহার ও পরিকল্পনা নিয়ে গর্ববোধ করি। আমি বলতে চাই, এই আদর্শ চিরন্তন এবং এটি সব সময়ই থাকবে।’
নিজ আসনে যথাযথভাবে আইনপ্রণেতার দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন করবিন।