ছোট পর্দার প্রশংসিত অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা। অভিনয়ের বাইরে তাকে খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে এবার তাকে দেখা যাচ্ছে মিউজিক ভিডিওতে। জীবন্ত কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের গানের মডেল হয়েছেন তিনি। এই গান ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
আশা ভোঁসলে বলেই...
আমি অভিনয়ের বাইরে তেমন কিছুই করতে চাই না। ২০১১ সালে তপুর গানে সবশেষ মডেল হয়েছিলাম। কিন্তু এবার আশা ভোঁসলের নাম শুনে না করতে পারিনি। ছোটবেলায় দেখতাম বাবা-মা নিয়ম করে লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলের গান শুনতেন। তা দেখেই তাদের প্রতি আমার ভালোলাগা, শ্রদ্ধা সবই তৈরি হয়। আশা ভোঁসলের গাওয়া ‘চলে যাওয়া ঢেউ’ গানের ভিডিও নির্মাতা শাহরিয়ার পলক ও ডিওপি নাজমুল মিলে আমাকে পছন্দ করেন। কিন্তু আমি পলক ভাইয়ের সঙ্গে আগে কাজ করিনি বলে নাজমুল ভাই আমাকে প্রথমে ফোন করেন। তার সঙ্গে আমি আগেই কাজ করেছি। আশা ভোঁসলের নাম শুনেই আমি অনেকটা রাজি হয়ে যাই। যখন গানটির পেছনের গল্প শুনতে পারি তখন আমি এটি করবইÑ এমন একটি চিন্তা মাথার মধ্যে কাজ করে। আমি জানতে পারি ৮৭ বছর বয়সী আশা ভোঁসলে বেশ কিছু দিন ধরে কোনো গান করেন না। শুধু রুনা লায়লার সুরে গাইবেন বলেই তিনি রাজি হন। রেকর্ডিংয়ের দিন তার কণ্ঠ দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছিল না। প্রায় তিন ঘণ্টা রেওয়াজ করে তিনি গানটি আস্তে আস্তে রেকর্ড করেন। রেকর্ডিং শেষে যে আউটপুট দাঁড়ায় তা অনন্য সাধারণ। এমন গায়কি এখনকার কোনো শিল্পীই দিতে পারবে না। হয়তো এটাই তার জীবনের সর্বশেষ মৌলিক গান। রুনা লায়লার এই অ্যালবামের মূল আকর্ষণ তিনি। তার জন্যই মূলত সিটি ব্যাংক এবং ভারতে এই গান প্রচারণার দায়িত্বে যারা আছেন সবাই আগ্রহবোধ করেছেন। সেই গানে আমি নিজেকে দেখবÑ এটা কোনো দিন কল্পনাও করিনি। এই কাজটি করার আরও একটি কারণ হলোÑ আমার মা খুব খুশি হবেন। গানটি প্রকাশের আগে কাউকে শোনানো নিষেধ ছিল। তাই খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাকে শোনাতে পারিনি। প্রকাশের পর তিনি শুনে ভীষণ মুগ্ধ হয়েছেন।
‘চলে যাওয়া ঢেউ’-এ অর্ষাই কেন?
যখন রুনা লায়লার ৬টি গানের এই অ্যালবামের মিউজিক ভিডিওর পরিকল্পনা চলছিল তখন সংশ্লিষ্টরা ভাবছিলেন কাকে কোন গানটায় মানায়। আমার গানটায় প্রেমিকের না ফেরার তীব্র আকুতি রয়েছে। গল্পে মেয়েটি প্রচুর কাঁদে। কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের নিচে ফুলে যায়। এই বিষয়টিই নাকি আমার সঙ্গে মানিয়েছে। নির্মাতা জানিয়েছেনÑ এই গানে যে ধরনের আবেগ রয়েছে তা নতুন প্রজন্মের কাউকে বোঝানোটাই কষ্টসাধ্য। তাহলে প্রপার অভিনয়টা তারা করবে কীভাবে? এসব বিবেচনা করেই আমাকে প্রস্তাব দিয়েছেন।
অন্যান্য ব্যস্ততা...
এখন দুটি ধারাবাহিক চলছে। এনটিভিতে ‘ঘুমন্ত শহরে’ ও বাংলাভিশনে ‘ভদ্রপাড়া’। সম্প্রতি অমিতাভ রানার ‘গতি’ ও রোজারিওর নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি খ- নাটক করেছি। বেশি এক্সাইটেড কয়েকটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে। প্রতিটি ওয়েব সিরিজের গল্প ও চরিত্র অসাধারণ। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াহিদ তারেকের ‘বুমেরাং’। গত মাসে শ্যুটিং করা এ সিরিজে আমার সঙ্গে ছিলেন আজাদ আবুল কালাম ও হিল্লোল। থ্রিলারধর্মী এ সিরিজে দেখানো হবে লাভ, ওয়ার ও ইগো নিয়ে তিনটি সমান্তরাল গল্প। আরেকটি সিরিজের নাম ‘ওয়াইজ গাই’। পরিচালনা করেছেন কে এম সোহাগ। লোয়ার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে নির্মিত এ গল্পে আমার বিপরীতে আছেন অ্যালেন শুভ্র। ফজলে রাব্বী নামের নতুন একজন মেধাবী পরিচালকের ওয়েব সিরিজ করেছি। নাম এখনো ঠিক হয়নি। আমার স্বামীর চরিত্রে রয়েছেন লুৎফর রহমান জর্জ। বুঝতেই পারছেনÑ বয়সের অনেক পার্থক্য রয়েছে এমন এক দম্পতির গল্প।