বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খন্দকার মোশতাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন জিয়া।’ তিনি বলেন, ‘যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জিয়া জড়িত না-ই থাকবেন, তবে খন্দকার মোশতাক তাকে কেন সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন?’ গতকাল শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ
বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বাংলাদেশের মাটি এখানে আমরা দেখি সেই মীর জাফর, মোশতাক থেকে শুরু করে বেইমানের জন্ম বারবার হয়েছে। খুনি জিয়ার মতো বারবার খুনিরা এসেছে।’
‘কিন্তু ভবিষ্যতে আর এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেই দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণকে নিতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজকে নিতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।’
শহীদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যারা এদেশের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন, যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছেÑ তাদের নামটাও মুছে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা তো মুছে ফেলতে পারেনি। কারণ আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। কখনো বৃথা যায়নি। সেটা প্রমাণ হয়েছে এখন বাংলাদেশে।’
১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান খুনের সঙ্গে জড়িত, ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা, মিথ্যা ইতিহাস তৈরি করা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু সত্যকে কেউ কখনো একেবারে মুছে ফেলতে পারে না।’
‘দেশের ওপর একটা কালো মেঘের ছায়া ছিল’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কালো মেঘের ছায়া ছিল আমাদের ওপর। কারণ যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিলেন- যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাদের মন্ত্রী বানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছেন।’
‘আর জাতির পিতার খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। একবার চিন্তা করে দেখেন বাংলাদেশে চাকরি করে, তাদের কোয়ালিফিকেশন কী? তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি। শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারী।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা বাংলাদেশ চায় না, পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল, তাদেরই ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে। গোলাম আযমকে আনা হয়েছে। সে তো ফিরে এসেছে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে। নিয়ে এলো কে? জিয়াউর রহমান। আব্দুল আলিম, মাওলানা মান্নান থেকে শুরু শাহ আজিজ, যে শাহ আজিজকে পাকিস্তান প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘে পাঠিয়েছিল। সেখানে (জাতিসংঘ) যান যুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ) বিচ্ছিন্নতাবাদী- এসব বলার জন্য, ওকালতি করার জন্য। যদিও সেখানে খুব একটা পাত্তা পায়নি। কিন্তু গিয়েছিল। তাকে জিয়াউর রহমান বানালেন প্রধানমন্ত্রী। যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি সে হলো দেশের প্রধানমন্ত্রী।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া এসে আরও এক ধাপ ওপরে। তার স্বামী যা করেছেন তার চেয়ে আরেকটু বেশি করলেন। সেই রাজাকার বাহিনী, আল বদর বাহিনী, যারা এই বুদ্ধিজীবীদের ঘরে গিয়ে ধরে নিয়ে এসে হত্যা করেছে তাদের মন্ত্রী বানালেন।’
‘তারা মন্ত্রী হয়ে দেশকে ধ্বংস করেছে। দেশটা যে লাখো শহীদের রক্তে স্বাধীন হয়েছে তার বিষয়ে তাদের কোনো সহানুভূতি ছিল না। পাকিস্তানের প্রতি তাদের গভীর আনুগত্য। সেই আনুগত্যই তারা দেখিয়ে গেছে। তাদেরই তোষামোদি খোসামোদি করে গেছে, করে যাচ্ছে এখনো।’
সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু ও ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস।
এছাড়া অনুষ্ঠানে শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ, ঢাকা উত্তর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী বক্তব্য রাখেন।