পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এই দুই সংস্থার বেশিরভাগ কর্মকর্তাই সংস্থা থেকে বের হয়ে যওয়ার পর নানা রকম উদ্ভাবনের কথা বলেন। অথচ সংস্থায় থাকা অবস্থায় কাজ করেন না বলেও অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাপেক্স ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাপেক্সকে আমরা কাজ দিচ্ছি না– এমন প্রশ্ন তোলেন অনেকে। আসলে আমরা তো বাপেক্সকে পুরো বাংলাদেশ দিয়ে রেখেছি। কিন্তু তাদের কাজের গতি কম। গতি বাড়িয়ে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।’
‘যতবারই তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, কাজ করছেন না কেন, ততবারই তারা বলেন, হ্যাঁ স্যার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু প্রস্তুতি আর শেষ হয় না, কাজও হয় না’– যোগ করেন নসরুল হামিদ।
তিনি বলেন, নিজ নিজ ড়্গেত্রে লিডারশিপ থাকতে হবে। আপনাদের জনবল আছে, তাদের কাজে লাগাতে হবে। এটাই আপনাদের চ্যালেঞ্জ। না হলে আমরা বাইরে থেকে যত চেষ্টাই করি না কেন, সম্ভাবনাময় কাজ দেখতে পাব না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে বাপেক্স অনেক বড় বড় কাজ করেছে। কিন্তু এখনকার অবস্থা ভালো না। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। পেট্রোবাংলার অবস্থাও একই। ফলপ্রসূ কোনো ভূমিকা তো দেখি না তাদের।
এ সময় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে গ্যাসের কোনো অনুসন্ধান হয়নি। সেখানে সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ বছর আগে একটি কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও কাজ হয়নি। একই স্ট্রাকচার ভারতের যেসব এলাকায় আছে, সেখানে তারা একের পর এক কূপ খনন করছে আর গ্যাস পাচ্ছে। ২০১০ সালে সবশেষ চারটি ব্লক বানিয়ে যৌথ কোম্পানি করার কথা বলা হলেও গত ৯ বছরে বাপেক্স কি কোনো আগ্রহী কোম্পানি খুঁজে পায়নি? নানা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এলএনজি আমদানি নিজেদের অযোগ্যতাই প্রমাণ করে।
জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, এখনই তালিকা করে ঠিক করতে হবে আমাদের কী আছে, কী নেই। তালিকার পর কী পারব আর কী পারব না তা ঠিক করতে হবে। না পারলে সেটা কীভাবে করা দরকার তাও ঠিক করতে হবে। কাজের গতি বাড়াতে হলে অ্যাকশন প্ল্যানের কোনো বিকল্প নেই।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বাপেক্স ১৫টি কূপ খনন করে ৬টিতে গ্যাস পেয়েছে। এটি বিশ্বের জন্য অনেক বড় বিষয়। বিশ্বে নতুন প্রযুক্তি আসছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে আলোচনা চলছে। আমরা কাজ করছি। আরও কাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ‘জিওলজিক্যাল ফিল্ড সার্ভে ফর হাইড্রো কার্বন এক্সপ্লোরেশন ইন বাংলাদেশ : প্রোগ্রেস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ এবং ‘ড্রাই অ্যাবেন্ডেন্ট অ্যান্ড সাসপেন্ডেন্ট ওয়েলস অব বাংলাদেশ অ্যান্ড রি ভিজিট ফর ফারদার এক্সপ্লোরেশন’ শীর্ষক দুটি ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।