প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পাশেও অনেক রাজাকার আছেন দাবি করে বর্ষীয়ান সাংবাদিক, কলামনিস্ট ও ভাষাসৈনিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তাদের নাম বললে তার দেশে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে স¤প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স¤প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালির বিজয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার সব জায়গায় রয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) পাশেও অনেক রাজাকার আছেন। তাদের নাম বললে আগামীতে আমার দেশে ফেরাও বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির কথা বলা হচ্ছে। দেখা যাবে, এ তালিকা তৈরি করছেন স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকাররা। আওয়ামী লীগের ভেতরে জামায়াতের লোক ঢুকে গেছে। তারা এখন বঙ্গবন্ধুর নাম বেশি বলে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার আগে তাদের (জামায়াত-রাজাকার) তালিকা করা দরকার। আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে জামায়াতিদের বের করে দিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে তারা আবারও সমস্যা সৃষ্টি করবে।
প্রধানমন্ত্রী সাহসের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন মন্তব্য করে বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক বলেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করছেন, যা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো পারতেন না। কারণ বঙ্গবন্ধু কোমল হদয়ের মানুষ ছিলেন। এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার কিছু হলে দেশে সন্ত্রাসবাদ কায়েম হবে এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দেওয়া হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লন্ডনে তারেক জিয়ার কত টাকা রয়েছে আল্লাহ ভালো জানেন। তিনি নাইট ক্লাবে যান, বড় বড় মার্কেটে ঘুরে বেড়ান, সেখানে তার বড় প্রভাব রয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন, খালেদা মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী (ডা. জোবাইদা) এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
সভায় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে শহীদ বলায় দৈনিক সংগ্রামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, আদালতের বিচারের মাধ্যমে তার ফাঁসির রায় হয়েছে, রায় কার্যকর হয়েছে। একটি পত্রিকার (দৈনিক সংগ্রাম) কাগজ তাকে ‘শহীদ’ বলেছে। তাদের (বিষয়ে) কথা বলার ভাষা আমার নাই। এটি বললে মুখের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়।
সংগঠনটির সভাপতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শহীদকন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী, সাংবাদিক হারুন হাবীব, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সংগঠনটির সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল প্রমুখ।