কৃষ্ণ সুন্দরীর মাথায় মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক/মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে, কালো মেঘের কালো হরিণ-চোখ/ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের পরে লোটে/কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ বিশ্বকবি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন অমোঘ বর্ণনার সুন্দরীর দেখা পেয়েছে বিশ্ব। হ্যাঁ, এবার মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছেন জ্যামাইকার টনি-অ্যান সিং। শ্যামা সৌন্দর্য ও মেধার বিচ্ছুরণে এবার তিনি সব আলো নিজের করে নিয়েছেন।

গত শনিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এক্সেল অ্যারেনায় মিস ওয়ার্ল্ডের গ্র্যান্ড ফিনালে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন মিস ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া মোরলি। তার মুখে নিজের নাম শুনে বিস্মিত হন টনি। যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না এমন অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে কৃষ্ণাঙ্গ এ সুন্দরীর দুই চোখে। পরে নতুন মিস ওয়ার্ল্ডকে নীল রঙা মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের সেরা মেক্সিকোর ভ্যানেসা পনসে দেলেওন। এর মধ্য দিয়ে ২৬ বছর পর মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট ফিরলো জ্যামাইকায়। ১৯৬৩, ১৯৭৬ ও ১৯৯৩ সালে তিনবার দেশটির সুন্দরীরা এ স্বীকৃতি জিতেছিলেন।

সিএনএন বলছে, ১১০ দেশের সুন্দরীদের হটিয়ে ২৩ বছর বয়সী টনি-অ্যান সিং সেরার মুকুট জয় করেন। ফ্লোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের এ ছাত্রীর স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক হওয়ার। অবসরে গান গেয়ে ও রান্না করে কাটে তার সময়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ স্বীকৃতি পেয়েছেন ফ্রান্সের অফেলি মেজিনো। আর তৃতীয় হয়েছেন ভারতের সুমন রাও। এর আগে মিস ওয়ার্ল্ডের ৬৯তম আসরের গ্র্যান্ড

ফিনাল মঞ্চে বাংলাদেশসহ ১১১ দেশের সুন্দরীরা নিজ দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন রাফিয়া নানজিবা তোরসা।

জাঁকালো এ আয়োজন সঞ্চালনা করেন ব্রিটিশ পপতারকা পিটার আন্ড্রে ও মেগান ইয়াং। উপস্থাপনার পাশাপাশি পিটার গেয়ে শোনান ‘মিস্টিরিয়াস গার্ল’। এরপর ‘শাউট’ শিরোনামের গান পরিবেশন করেন ব্রিটিশ গায়িকা লুলু।