‘রাজাকারপুত্রের’ পতাকা উত্তোলন

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন মুক্তিযোদ্ধাদের

নীলফামারীর ডোমারে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে যুদ্ধাপরাধীর সন্তান অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা।
এ সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরননবীর নেতৃত্বে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদের বাবা ও দাদা যুদ্ধাপরাধী। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের আনা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোফায়েল আহমেদ।
ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. নুরননবী  দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের বাবা শওকত আলী সরকার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের পিস কমিটির সভাপতি এবং তার দাদা চাটি মামুদ পিস কমিটি সদস্য ছিলেন। এলাকার কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সামছুল হক টগরার ঘনিষ্ঠ সহচর থেকে যুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে মুক্তিকামী মানুষের সম্পদ লুট ও পাকসেনাদের সহযোগিতা করেছিলেন তোফায়েলের বাবা।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীর সন্তান উপজেলা চেয়ারম্যানের পদকে পুঁজি করে বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে এটি আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নিতে পারিনি। এ কারণে পতাকা উত্তোলনের ওই অনুষ্ঠান আমরা বর্জন করেছি।’
ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জিলুর ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমার চাচা আব্দুর রউফ ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য তোফায়েলের বাবা শওকত আলী পাকসেনাদের নিয়ে আমার চাচার বাড়িসহ আমাদের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বাড়ি পোড়ানোর পর পাকসেনাদের ডোমার শহরে নিয়ে গিয়ে সুস্বাদু সন্দেশ সরবরাহ খাইয়েছিলেন; যা আমি প্রত্যক্ষ দেখেছি।’
তবে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ অস্বীকার করে ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমার বাবা এবং দাদা স্বাধীনতার স্বপক্ষে ছিলেন। বাবা-দাদা কেউই যুদ্ধাপরাধী নন। আর মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন এটা আমার জানা নেই। আমি সকালে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেছি।’
অনুষ্ঠান বর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আমরা যৌথভাবে পতাকা উত্তোলন করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করেননি। পতাকা উত্তোলনের সময়টা বর্জন করেছেন।’