শহীদ পরিবারের সদস্য-মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় থাকায় ক্ষোভ

বরিশালে এক শহীদ পরিবারের সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় উঠে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় গেজেটভুক্ত তালিকায় বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা তপন কুমার চক্রবর্তী ও তার মা প্রয়াত উষা রানী দেবীর নাম প্রকাশিত হয়েছে। তপন কুমারের বাবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুধীর কুমার চক্রবর্তী।

এদিকে একই তালিকায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বরিশালের প্রয়াত মিহির লাল দত্তের নামও এসেছে ওই তালিকায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সকালে শুভাকাঙ্ক্ষী মাধ্যমে প্রথম জানতে পারেন মুক্তিযোদ্ধা তপন কুমার চক্রবর্তী। ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বিজয় দিবসে রাজাকারের তালিকায় নাম আসায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। ৯ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন তপন কুমার চক্রবর্তী। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আর নিজের ৭৬ বছর বয়সে এমন খবর তার পরিবারের সদস্যদের ব্যথিত করেছে। বৃদ্ধ বয়সে কেন এই অপবাদ সেই প্রশ্ন তপন কুমার চক্রবর্তীর।

বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার জন্য হয়েছে বলে মনে করেন তার কন্যা ও বরিশাল জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী। আর তার স্ত্রী এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

বরিশাল থেকে পাঠানো রাজাকারের তালিকায় এই দুজনের নাম ছিল না বলে জানিয়েছেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মো. মোখলেচুর রহমান। জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলছেন, ভুল হতে পারে। সংশোধনের সুযোগও থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তপন কুমার চক্রবর্তী নাম রয়েছে ১১১ নম্বরে আর কেন্দ্রীয় লাল বইয়ের তালিকায় তার নম্বর ০৬০১০১০১০৮। তার বাবা সুধীর কুমার চক্রবর্তী যুদ্ধে শহীদ হন। মা উষা রানী দেবী মারা যান ২০০৪ সালে। 

অপরদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বরিশালের প্রয়াত মিহির লাল দত্তের নামও এসেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায়। বরিশাল বিভাগের তালিকায় ২২ নং পাতায় ৯৪ নং এ মুক্তিযোদ্ধা মিহির লাল দত্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে রাজাকারের তালিকায়।

এছাড়াও সেখানে তার বাবার নাম জীতেন্দ্র দত্ত এবং আগরপুর রোডের বাসিন্দা উল্লেখ করা হয়।

এদিকে রাজাকারের তালিকায় বাবার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিহির লাল দত্তের ছেলে শুভব্রত দত্ত।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং- ২৮৯ ২১/০৫/২০০৫ এবং মুক্তিবার্তা নং- ০৬০১০১১০৬০। এছাড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত সাময়িক সনদ নং- ম২৮৬১৬। তার নাম কিভাবে রাজাকারের তালিকায় এসেছে সেটা আমার বোধগম্য নয়। যারা এই তালিকা তৈরির সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করেন শুভব্রত দত্ত।

জানা গেছে, ১৯৩৫ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মিহির লাল দত্ত। পিতা অ্যাডভোকেট জিতেন্দ্র লাল দত্ত, মাতা শোভা রানী দত্ত।

শিক্ষা জীবনে তিনি এম. এ (বাংলা), এম. এ (ইংরেজি), এম. এ, এলএলবি পাস করেন। ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সাংবাদিক মিহির লাল দত্ত একাধারে কবি, নাট্যকার, গীতিকার, ছোট গল্পকার। মিহির লাল দত্ত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পিতা জিতেন্দ্র লাল দত্ত এবং মেজ ভাই সুবীর দত্ত পান্থ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।