পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে তহবিল গঠন

পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে একটি তহবিল গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ-সংক্রান্ত একটি উদ্যোগ গতকাল মঙ্গলবার অনুমোদন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এই তহবিল শুধু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ড়্গেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অর্থমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রীর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্রোকারেজ হাউসগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে ঋণ সহায়তা দিতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়। তখন সচিব তাদের লিখিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দিলে গত ৪ ডিসেম্বর লিখিতভাবে প্রস্তাব দেয় বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতেই গতকাল অর্থমন্ত্রী এ ধরনের একটি তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে তহবিলের আকার সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারের সহযোগিতায় ৬ বছরের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা চেয়ে করা ওই প্রস্তাবে বলা হয়, এই অর্থ পুঁজিবাজারের সব মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এই টাকার বিপরীতে দ্বিতীয় বছর থেকে ৩ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। আর চতুর্থ বছর থেকে আসলসহ সুদ পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথম বছর সুদ চার্জ না করতে আহ্বান করা হয়।

এই তহবিল শুধুই পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের জন্যই ব্যবহার করা হবে বলেও লিখিত প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই তহবিল পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে ওই টাকার ব্যবহার নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে বলে প্রস্তাবে বলা হয়।

২০১৮ সাল থেকে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট থেকে পুঁজিবাজারে দরপতন শুরু হয়। চলতি বছর বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাওয়ায় দরপতন আরও বাড়ে। এতে তালিকাভুক্ত ৮০ শতাংশের বেশি শেয়ার দর হারায়। ফলে প্রায় সব ধরনের বিনিয়োগকারী বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছেন।

এদিকে গতকালও পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হওয়া প্রায় ৭৭ শতাংশ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচকটি ৭৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। এতে সূচকটি নেমে এসেছে ৪৪১৯ পয়েন্টে, যা ২০১৬ সালের ২৭ জুনের পর সর্বনিমœ। চলতি বছর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি প্রায় ১৮ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে।