মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম উঠে আসা ও চিহ্নিত অনেক রাজাকারের নাম না থাকায় সারা দেশে ড়্গোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে চলছে আলোচনা, উঠেছে নানা প্রশ্ন। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে মুক্তিযোদ্ধাসহ রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। তালিকা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কোথাও কোথাও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল, বরগুনা, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম তালিকায় উঠে আসে। এরপর থেকে ড়্গোভ-হতাশা প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। নিজের নাম থাকায় গতকাল ড়্গোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ চেম্বারে তিনি বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম যুক্ত থাকায় আমি হতবাক, বিস্মিত, মর্মাহত ও অপমানিত।’ এ ঘটনার উৎস খুঁজে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তালিকায় বরিশালে মুক্তিযোদ্ধাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম থাকায় প্রত্যাখ্যান করে ওই তালিকা পুড়িয়ে দিয়ে ড়্গোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা বাসদ। একই সঙ্গে ওই তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শািস্তও দাবি করেছেন।
উত্তর জনপদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’-এর সর্বাধিনায়ক আবদুল লতিফ মির্জার নাম থাকায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষ ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ মিছিল করেছে। এরপর এক সংক্ষিপ্ত সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জানানো হয়।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন থানা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মজিবুল হককে (নয়া ভাই) রাজাকার তালিকায় অন্তভু©ক্ত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মাগুরায় থানা থেকে রাজাকারদের তালিকা গায়েবের অভিযোগ উঠেছে।
রাজশাহীর তিনজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের নাম থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। গতকাল বিকেলে এক মানববন্ধনে রাজাকারের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও বিতর্কিত তালিকা তৈরিতে জড়িতদের শািস্তর দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
বিভিন্ন মহল থেকে তালিকা প্রকাশের দাবির পর গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ঘটনার উৎস খুঁজতে গোলাম আরিফ টিপুর আহ্বান : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকায় রাজাকারের তালিকায় নিজের নাম থাকায় ড়্গোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। তিনি বলেছেন, ‘তালিকায় আমার নাম যুক্ত থাকায় আমি হতবাক, বিস্মিত, মর্মাহত ও অপমানিত। কেন এবং কীভাবে এ নাম এলো সেই ঘটনার উৎস খুঁজে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’
গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ চেম্বারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘আমার দাবি একটাই, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সেই শক্তিকে যারা রাজাকার-আলবদরের তালিকায় যুক্ত করেছে সেটা কীভাবে হলো, তার উৎস কারা, সেটা খুঁজে বের করে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’
অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকায় দেখা যাচ্ছে আমার সঙ্গী আরও চার-পাঁচজন রয়েছেন। যাদের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। আমাদের রাজাকারের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এটা বুঝে পেলাম না কোথা থেকে তারা এই শক্তিটা পেল। এটা মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ সংস্থায় যুদ্ধাপরাধীর পক্ষের শক্তি বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী যে শক্তি তাদের অবস্থান এখনো কিছুটা রয়ে গেছে এবং সেখান থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিষয়গুলো হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে যারা স্বাধীনতাবিরোধী তারাই এ তালিকা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কতৃ©পক্ষ রাজাকার তালিকা প্রচার ও প্রকাশের ড়্গেত্রে সীমাহীন অযত্ন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে এ তালিকা প্রকাশ ও প্রচার করেছে।’
গোলাম আরিফ টিপু বলেন, ‘আমি ৫২-এর ভাষাআন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০ আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। ২০১৩ সালের ৭ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, বিশেষ গেরিলা বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় (জেলা রাজশাহী পৃষ্ঠা নম্বর ৬৮৩৭, ক্রমিক নম্বর ৩৩) তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার নাম রয়েছে।’
এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সীমন উপস্থিত ছিলেন। সুলতার মাহমুদ সীমন জানান, যদি ওই তালিকা থেকে অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুর নাম প্রত্যাহার করা না হয় এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।
বরিশালে তালিকা প্রত্যাখ্যান করে অগ্নিসংযোগ : বরিশালে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম থাকায় তা প্রত্যাখ্যান করে ওই তালিকা পুড়িয়ে দিয়ে ড়্গোভ প্রকাশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা বাসদ। একই সঙ্গে ওই তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শািস্তর দাবি করা হয়েছে।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর অশি^নী কুমার হল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী ও তার কন্যা বাসদ জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের বিতর্কিত তালিকা পুড়িয়ে ফেলেন।
এ সময় মনীষা চক্রবর্তী বলেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি মনে করি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী এবং দাদি শহীদ জায়া ঊষা রানী চক্রবর্তীকে রাজাকার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আমি ওই ভুয়া তালিকা বাতিলসহ ভুল সংবলিত তালিকা প্রণয়নে জড়িতদের শািস্তর দাবি করছি।’
তালিকা প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, আজ আওয়ামী লীগ সরকার ৪৮ বছর পর বিজয় দিবসে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে রাজাকারের তালিকায় নাম প্রকাশ করে ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। তাই অবিলম্বে এ প্রকাশিত তালিকা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার দাবি জানাই।
বরগুনায় বিক্ষোভ : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন থানা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মজিবুল হককে (নয়া ভাই) রাজাকার তালিকায় অন্তভু©ক্ত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাথরঘাটার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় অনতিবিলম্বে তালিকা প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বরগুনার সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ড়্গোভ বিরাজ করছে।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশিত তালিকায় মজিবুল হককে অন্তভু©ক্ত করার প্রতিবাদ নিন্দা জানানো হয়। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ শেষে রাসেল স্কয়ারে মানববন্ধন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মজিবুল হক ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (পাথরঘাটা-বামনা) সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত পাথরঘাটা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আ. রশিদ বলেন, মজিবুল হক পাথরঘাটা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। আমাদের কাছে প্রশাসন একটি রাজাকারের তালিকা চেয়েছিল। আমরা তখন একটি তালিকা দিয়েছিলাম কিন্তু সেখানে তার নাম দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরগুনার চিহ্নিত রাজাকার আজিজ মাস্টার; কিন্তু উনি রাজাকার হিসেবে বিবেচিত হননি।
মুক্তিযোদ্ধা সুখ রঞ্জন শীল বলেন, মজিবুল হককে আমরা একজন সজ্জন মানুষ হিসেবেই চিনি। তিনি কখনো বরগুনায় রাজাকারের ভূমিকায় ছিলেন না তবে তার নাম রাজাকারের তালিকায় আসাটা দুঃখজনক। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
তালিকায় আবদুল লতিফ মির্জার নাম থাকায় ড়্গোভ : মুক্তিযুদ্ধে উত্তর জনপদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’-এর সর্বাধিনায়ক আবদুল লতিফ মির্জার নাম থাকায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষ ও তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শহরে প্রতিবাদ মিছিল ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আবদুল লতিফ মির্জার মেয়ে সেলিনা মির্জা মুক্তি প্রশ্ন তুলে সাংবাদিকদের বলেন, এই তালিকা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে নাকি কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।’
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে বেসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’ ছিল পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদরদের আতঙ্ক। আমার বাবা আবদুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের মুক্তিযোদ্ধারা তাড়াশের নওগাঁয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আবদুল লতিফ মির্জা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজাকারের তালিকায় তার নাম কীভাবে এলো। আমাদের পরিবার এই তালিকা দেখে বিস্মিত।’ সেলিনা মির্জা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভুল হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
উল্লাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার খোরশেদ আলম জানান, তাদের তৈরি করা তালিকার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তালিকার কোনো মিল নেই। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত।
মাগুরায় তালিকা থানা থেকে গায়েব! : মাগুরায় থানা থেকে রাজাকারদের তালিকা গায়েবের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর। তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য মাগুরায় এই তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে স্বাধীনতাবিরোধীরা তাদের সরকার আমলে এটি থানা থেকে গায়েব করে দিয়েছে। আমরা এটি সন্ধান করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।’
রাজশাহীতে মানববন্ধন : রাজাকারের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও বিতর্কিত তালিকা তৈরিতে জড়িতদের শািস্তর দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল বিকেলে রাজশাহী সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করে তারা। এদিকে রাজাকারের তালিকায় রাজশাহীর তিনজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের নাম থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
সংগঠনের সভাপতি ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যে করেছে তাদের মধ্যেই রাজাকার রয়েছে। রাজাকার আছে বলেই এমন গোলমাল করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যদি এটি ঠিক করা না হয় তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের খুব বিপদে পড়তে হবে।
প্রবীণ সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম বলেন, রাজকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, এরকম একটি কাজের দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কখনো এড়িয়ে যেতে পারে না।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের পরিবারের সদস্য কবি আরিফুল হক কুমার এবং মানববন্ধনে উপস্থিতরা রাজাকারদের অসংগতিপূর্ণ তালিকা নিয়ে চরম অস‡ন্তাষ প্রকাশ করেছেন।