ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন বৈঠকও স্থগিত

এবার নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে স্থগিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক। পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে দুই দেশ ছয়টি নদীর তথ্য-উপাত্ত ২৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো হালনাগাদ করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আজ বুধবার এ বৈঠক শুরুর কথা ছিল। সূত্রে জানা গেছে, জেআরসির প্রস্তাবিত বৈঠকের প্রথম দিনে যৌথ কমিটির ও দ্বিতীয় দিন কারিগরি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সফরের অনুমতি না থাকায় বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভারতে পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর সফর বাতিলের পর গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটিও স্থগিত হলো। তবে আগামী জানুয়ারিতে বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের ভারত সফরের অনুমতি না থাকায় ওই বৈঠক আজ শুরু হচ্ছে না, তা প্রতিনিধি দল সূত্রে জানা গেছে। মনু, ধরলা, খোয়াই, গোমতী, মুহুরী ও দুধকুমার–দুই দেশের অভিন্ন এই ছয় নদীর পানি বণ্টনের বিষয় নিয়ে প্রতিবছর একবার এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এসব নদীর হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে রূপরেখা চ‚ড়ান্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হতো আজকের এই বৈঠকে। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভারত সফর বাতিল করা হয়। ভারতে সম্প্রতি পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর সফর বাতিল করা হয়।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। দুদেশের পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, সীমান্ত নদী ভাঙন সমস্যা, বন্যা পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বিষয়ে এই কমিশনের বৈঠকে আলোচনা হয়ে থাকে। যৌথ নদী কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৮৫ সালে প্রথমবারের মতো উল্লিখিত ছয়টি নদীর প্রবাহ একে অন্যের সঙ্গে বিনিময় করেছিল। তখন থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার দুই নিকট প্রতিবেশী ছয়টি নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।