যেকোনো দিন যুবদল ও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে কত মামলার আসামি হয়েছেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, এনআইডি নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংবলিত বায়োডাটা নেওয়া হচ্ছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোর পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তারা বলেছেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কমিটি গঠন প্রক্রিয়া ছিল এক ধরনের। তিনি না থাকায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া ভিন্ন ধরনের। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমিটির সব নেতার সব ধরনের তথ্য রাখেন। নেতারা জানান, চলতি ডিসেম্বর মাসেই যুবদল ও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এর মধ্যে আগে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে। আগামী ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে প্রকাশ করা হবে ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

যুবদলের কয়েকজন নেতা বলেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ তিন বছর। আগামী জানুয়ারি মাসে এ কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। এরই মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে যাদের পদ দেওয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাসহ বিভিন্ন রকম তথ্য-উপাত্ত তাদের নামের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই-বাচাই শেষে অনুমোদিত কমিটি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। কমিটির সদস্য সংখ্যা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৭১ সদস্য বিশিষ্ট হবে।’

ছাত্রদলের কাউন্সিলের পর কেটে গেছে তিন মাস। আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা ঘোষণা করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলকে নিয়ে কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছি। শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৮ ফেব্রম্নয়ারি ২০১৮, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। নেত্রী যখন সংগঠন পরিচালনা করেছেন তখন তাকে কেউ কেউ ভুল বুঝিয়ে পার পেয়েছেন। তার উদারতার সুযোগ নিয়েছেন। কিন্তু এখন দলের সব ধরনের পুনর্গঠনের কাজ করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাকে ভুল বোঝানো মুশকিল। কারণ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সরাসরি তৃণমূল নেতাদের ফোন করেন। তাদের সঙ্গে সংগঠনের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। আপডেট থাকেন। এখন দলের যে পুনর্গঠন চলছে তাতে যারা নেতৃত্বে আসবেন তাদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে তবেই পদ-পদবি পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশের সংগঠনের বাস্তবচিত্র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে রয়েছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সবপর্যায়ের নেতাদের অনেকেরই বায়োডাটাসহ সম্পূর্ণ তথ্য তার কাছে রয়েছে। যাদেরটা নেই তাদেরটা ইতিমধ্যে সংগ্রহ করে ফেলেছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যখন বনানীতে হাওয়া ভবনে বসতেন তখন সে অফিসেও সব নেতার তথ্য-উপাত্ত তার কাছে ছিল। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনে যৌথ অভিযানের কারণে তা নষ্ট হয়ে গেছে।’

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত নভেম্বর মাসে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তা লন্ডনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি সে কমিটি ফেরত পাঠিয়েছেন। যুবদলের কমিটিতে যাদের পদ দেওয়া হয়েছিল তাদের প্রত্যেকের বায়োডাটাসহ সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্তসহ পুনরায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রত্যেকের বায়োডাটা সংগ্রহ করে ফাইল আকারে তা লন্ডনে পাঠিয়েছেন। এখন সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তারেক রহমান কমিটি বিএনপির দপ্তরে পাঠাবেন। দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে সেই কমিটি পাঠানো হবে প্রকাশের জন্য।