হারিয়ে যাওয়ার ১৮ বছর পর

মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে রাজবাড়ী থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন হাসি আক্তার। এরপর কেটে গেছে ১৮ বছর। একটি অনাথ আশ্রমে ঠাঁই হয় হারিয়ে যাওয়া হাসির। সেখানেই বেড়ে ওঠেন, পড়াশোনা করে এখন চাকরিও করছেন। কিন্তু বিয়ের পরই ঘটেছে তার জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাটি। সম্প্রতি দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে এসে হাসি শোনালেন ১৮ বছর পর তার মাকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। সে গল্প অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি

চেওখালী গ্রামের নতুন বৌ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার চেওখালী গ্রামের যুবক রায়হান হোসেন তুষার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ঢাকায়। সম্প্রতি তার বিয়ে নিয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠেন তার নিকটাত্মীয়রা। চাচা জাহাঙ্গীর আরিফ তুষারের জন্য একজন পাত্রীও ঠিক করেন। এ ব্যাপারে তুষারের মতামত জানতে চান তিনি। তুষারকে জানানো হয়, যে পাত্রীর সঙ্গে বিয়ের কথা চলছে তার নাম হাসি। তার বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই। সে বড় হয়েছে একটি অনাথ আশ্রমে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত গাইবান্ধার ওই অনাথ আশ্রমে এক সময় দায়িত্বরত ছিলেন তুষারের চাচা জাহাঙ্গীর আরিফ। এই অনাথ আশ্রম থেকেই ইন্টারমিডিয়েট পাস করে সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি চাকরি পেয়েছে হাসি।

পাত্রীর বর্ণনা শুনে প্রাথমিকভাবে একটু দ্বিধাগ্রস্ত হলেন তুষার। ভাবলেন, পাত্রীর বাবা-মা নেই মানে তো তার শ্বশুরবাড়িও নেই। বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি না থাকার দুঃখ তাকে সারা জীবন তাড়া করবে। তারপরও এমন একটি অনাথ মেয়ের কথা শুনে কিছুটা মায়াও হলো তুষারের। এই মায়া আরও বাড়ল, যখন একে অপরের সঙ্গে তারা দেখা করলেন। পাত্রী হিসেবেও হাসির মূল্য কম কীসে? বাবা-মা ছাড়াই একা একটা মেয়ে এতদূর পড়াশোনা করেছে এবং একটি সরকারি চাকরিও পেয়েছে! পাত্র-পাত্রীও একে অপরকে পছন্দ করেছে। তাই হুট-হাট করে চলতি বছরের ১২ অক্টোবর তাদের বিয়েটাও হয়ে গেল।

বাবা-মা না থাকলেও অনাথ হাসির বিয়ে অনেক ঘটা করেই দিয়েছিলেন গাইবান্ধার সরকারি শিশু পরিবারের কর্মকর্তারা। সেই বিয়েতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনেক বড় বড় কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। বরবেশে থাকা তুষার কিছুটা অবাকই হন এমন আয়োজন দেখে। আয়োজন দেখেই বোঝা যায়, অনাথ আশ্রমে থাকা হাসি মানুষের কতটা ভালোবাসা অর্জন করেছে। বিয়ের আয়োজন দেখে ক্ষণে ক্ষণে চোখ ভিজে গেছে হাসিরও। নতুন জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে সে। সবচেয়ে বড় কথা হলোÑ এত দিন পর কাউকে বাবা-মা বলে ডাকতে পারবে এটা ভেবেও আনন্দে ভাসছিল সে। স্বামী হিসেবে তুষারও খুব বন্ধুসুলভ।

নতুন বউ হিসেবে হাসি যখন নলডাঙা উপজেলার চেওখালী গ্রামে তুষারের বাড়িতে পৌঁছল, সেখানেও ছিল কৌতূহলী মানুষের ভিড়। যদিও নতুন বৌ দেখতে আসা অনেকেই জানে না হাসির অনাথ জীবনের গল্প।

কী সেই গল্প?

১৮ বছর আগের কথা। রাজবাড়ী জেলার খানখানপুর ইউনিয়নের খলিল মিয়ার ছিল দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তান। কন্যার নাম খোদেজা বেগম। একমাত্র কন্যা হওয়ায় খলিল মিয়া চাইতেন না খোদেজার দূরে কোথাও বিয়ে হোক। সম্ভব হলে একজন ভালো পাত্রের কাছে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তাকে ঘরজামাই করে রাখতেও আপত্তি ছিল না খলিলের। সেই মতো একজন পাত্রেরও সন্ধান পাওয়া গেল। পাত্রের বাড়ি রাজশাহীর পবায় হলেও ভাগ্যান্বেষণে তিনি রাজবাড়ীতে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। মেয়েকে তার কাছে বিয়ে দিয়ে তাকে ঘরজামাই করে নিজের বাড়িতে ঠাঁই দেন খলিল। প্রথমদিকে সবকিছু ভালোই চলছিল। খাদিজা বেগম আর হাসেম আলীর ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। এই কন্যাসন্তানই হলেন হাসি।

হাসির জন্মের পর থেকেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। কারণ হাসির বাবা হাসেম ছিলেন ভবঘুরে স্বভাবের। সংসারের দিকে তার মনোযোগ ছিল কম। তাই নিজের পরিবারকে ভরণ-পোষণের মতো সামর্থ্য তার ছিল না। এমনকি এ ব্যাপারে তার কোনো উদ্যোগও ছিল না। এ থেকেই অশান্তির শুরু। শেষ পর্যন্ত তা বিয়ে বিচ্ছেদে গড়ায়। হাসির নানা খলিল মিয়া তাই অন্য আরেকজন পাত্রের সঙ্গে খোদেজার বিয়ে দিয়ে দেন। এবার আর ঘরজামাই নয়। তাই বিয়ের পর খোদেজাকে তার নতুন স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হয়। এ অবস্থায় হাসি থেকে যায় তার নানার বাড়িতে। সেখানেই সে বড় হতে থাকে। সমবয়সী এক মামাতো বোনের সঙ্গে তার বেশ ভাব জমে ওঠে।

নানার বাড়িতে হাসির আদরের কমতি ছিল না কোনো। কিন্তু তার যখন সাড়ে চার বছর বয়স, তখন হঠাৎ করেই একদিন রাজশাহী থেকে তার দাদি এসে উপস্থিত। তিনি নাছোড়বান্দা। যে করেই হোক, নাতনিকে তিনি নিজের বাড়িতে নিয়ে যাবেন। কারণ বাবার বাড়িই মেয়েদের আসল বাড়ি। এ অবস্থায় হাসি দাদার বাড়ি এবং নানার বাড়ি দুই জায়গায়ই যাতায়াত করবে এমন শর্তে দাদির সঙ্গে তাকে যেতে দেওয়া হয়। এই যেতে দেওয়াই কাল হয়ে দাঁড়ায় হাসির জীবনে।

হাসিকে সঙ্গে নিয়ে রাজবাড়ী থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে একটি ট্রেনে চড়ে বসেছিলেন তার দাদি। ট্রেনের ভেতর যাত্রীদের ভিড় থাকলেও একটি আসন পেয়ে সেখানে নাতনিকে নিয়ে বসে পড়েন হাসির দাদি। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে হাসি। কিন্তু ঘুম ভাঙলে সে দেখে- পাশে তার দাদি নেই। ট্রেনও খালি। রাজশাহীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মীরা তার ঘুম ভাঙায়। এত ছোট একটি মেয়েকে একা একা ঘুমাতে দেখে তারাও অবাক হয়। ভাবে, হয়তো আশপাশেরই কোনো বস্তির মেয়ে। কিন্তু ঘুম ভেঙেই দাদিকে খুঁজতে শুরু করে হাসি। কাঁদো কাঁদো হয়ে রেলওয়ে কর্মচারীদের কাছে তার দাদির কথা জিজ্ঞেস করে। রেলওয়ে কর্মীদের বুঝতে বাকি থাকে না যে, মেয়েটি ট্রেনের মধ্যে তার স্বজনদের হারিয়ে ফেলেছে। তারা তার কাছে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। কিন্তু এতটুকুন মেয়ে এসবের কী জানে? সে তার নাম বলেছিল হাসি। মায়ের নাম বলেছিল খোদেজা। নানার নাম খলিল আর মামাদের নাম সাইদুল ও দুলু। আর ঠিকানা বলেছিল খানখানপুর। তার আধো মুখে বলা সব তথ্যই ছিল অস্পষ্ট। এক রেলওয়ে কর্মকর্তা হাসিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি আশপাশের অঞ্চলগুলোতে খোঁজখবর নেন। কিন্তু কোথাও হাসির স্বজনদের কোনো খোঁজ মেলেনি। এমনকি স্টেশনেও তাকে কেউ খুঁজতে আসেনি। প্রায় দুই মাস নিজের বাড়িতে রাখার পর রাজশাহীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালিত অনাথ আশ্রম শিশু পরিবারে হাসিকে রেখে আসেন ওই কর্মকর্তা।

স্বজনদের হারিয়ে প্রথম দিকে হাসির মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করত। পরে রাজশাহী শিশু পরিবারে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে সে। এক সময় ওই শিশু পরিবার থেকে তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। এভাবেই কেটে যায় পাঁচ বছর! ৯/১০ বছরের শিশু হাসি তখন ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। ছোটবেলার স্মৃতি তার আর মনে নেই বললেই চলে। কেবল আবছা আবছা মনে পড়ে তার সেই মামাতো বোনের কথা, যার সঙ্গে নানাবাড়িতে সে খেলা করত। মনে পড়ে, একটি আমরা গাছের কথা। নানার বাড়ির উঠোনেই ছিল এই গাছটি।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় হাসির জীবনে আরও একটি পরিবর্তন আসে। এসময় তাকে রাজশাহী থেকে গাইবান্ধার শিশু পরিবারে স্থানান্তর করা হয়। এই শিশু পরিবারেরই কর্মকর্তা ছিলেন জাহাঙ্গীর আরিফ। সহজ সরল আর শান্ত স্বভাবের হাসির হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি তাকে বেশ নাড়া দেয়। কেঁদে ওঠে তার পিতৃহৃদয়। একদিন হাসিকে তিনি বললেন, ‘আজ থেকে আমি তোমার বাবা। আমাকে তুমি বাবা বলে ডেকো।’ তারপর থেকে হাসি তাকে বাবা বলেই ডাকে। তার স্ত্রীকে ডাকে মা। গাইবান্ধার শিশু পরিবারে হাসির সঙ্গে ভাব জমে ওঠে আরও এক কিশোরীর। তারও বাবা-মা’র কোনো নাম-পরিচয় নেই। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই তাকে কেউ ওই অনাথ আশ্রমে ফেলে গিয়েছিল।

২০১৫ সালে হাসি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, সে সময় গাইবান্ধা থেকে বরগুনায় বদলি হয়ে যান জাহাঙ্গীর আরিফ। বরগুনায় চলে গেলেও তিনি নিয়মিত হাসির খোঁজখবর রাখতেন। এভাবে কেটে যায় আরও চার বছর। এর মধ্যে হাসি এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হয় এবং সেখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে। শুধু তাই নয়, পাস করার পরপরই সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে একটি সরকারি চাকরিও পায় সে। এবার নিজের ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে হাসিকে নিজের পরিবারেরই একজনে পরিণত করেন জাহাঙ্গীর আরিফ। হাসির গল্প এখানেই শেষ নয়। বরং তার জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে বিয়ের পরই।

হাসির জীবনের নাটকীয় মুহূর্ত

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মিশে গেলেও হাসির মনমরা ভাবটি নজর এড়ায়নি স্বামী তুষারের। তাকে খুব নিঃসঙ্গ মনে হতো। এবার তার মন ভালো রাখার উদ্যোগ নেয় তুষার। রাতের বেলায় বিছানায় শুয়ে ছোটবেলার নানা স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাইত। বিশেষ করে তার হারিয়ে যাওয়ার সময়টির কথা। তার মায়ের কথা। কিংবা হারিয়ে যাওয়ার আগের কোনো স্মৃতির কথা।

কিন্তু ছোটবেলায় হাসির কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গিয়েছিল এর বেশি আর কিছুই সে মনে করতে পারেনি। বিগত ১৮ বছরে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো চলে গেছে আরও বিস্মৃতির আড়ালে।

নতুন বৌয়ের সঙ্গে কয়েকদিন কাটিয়ে এবার ঢাকায় কর্মক্ষেত্রে ফিরে এলেন তুষার। কাজে মনোযোগ দিলেও তার মনের মাঝে হাসির মনমরা মুখটি রয়েই গেল। গত নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে একদিন হাসির কথা ভাবতে ভাবতেই স্মার্টফোনে থাকা গুগলে ‘খানখানপুর’ লিখে সার্চ দেন তুষার। হাসির বর্ণনা অনুযায়ী- এই নামেরই কোনো একটি এলাকায় নানার বাড়িতে থাকত সে। কিন্তু গুগলে এই নামে কোনো এলাকার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে, ‘খানখানাপুর’ নামে একটি এলাকার সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে এই এলাকাটি রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন। তুষারের সন্দেহ হয়- হয়তো এই এলাকাটিই ছিল হাসিদের বাড়ি। খানখানাপুর’কেই হয়তো সে খানখানপুর বলেছে। এবার ওই ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় খুঁজতে শুরু করলেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি ফেসবুকের সহায়তা নেন। রাজবাড়ী জেলা সম্পর্কিত একটি পেইজ থেকে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তুষার হাসির ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে তার কাছে সাহায্য চান। জাহাঙ্গীর হোসেন তাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং খোঁজখবর শুরু করেন।

এদিকে, হাসির ঠিকানা খুঁজে পেতে উদগ্রীব তুষার খানখানাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ১৮ বছর আগে হাসির হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি তিনি ওই চেয়ারম্যানের কাছে বর্ণনা করেন এবং হাসির নানা তথা খলিল মিয়া নামে ওই ইউনিয়নে কোনো ব্যক্তি আছেন কি-না জানতে চাইলেন। চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়নে খলিল নামে কোনো ব্যক্তির সন্ধান দিতে ব্যর্থ হন। তবে, এক্ষেত্রে কাজের কাজটি করে ফেলেন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনিই তুষারকে জানান, খানখানাপুর ইউনিয়নের একটি শিশু ১৮ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল। তার নানার নাম খলিল। তিনি আর বেঁচে নেই। তবে, যার মেয়ে হারিয়েছিল, সেই খোদেজা আজও তার মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন। এই কথা শোনার পর আনন্দ অশ্রুতে ছলছল করে ওঠে তুষারের চোখ। মজার ব্যাপার হলো- তুষারের এই অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না হাসি। নম্বর পেয়ে হাসিকে ফোন করেছিলেন তার মা খোদেজা। ফোনের ওপাশ থেকে হাসিকে তিনি বলেন, ‘আমি তোমার মা।’

হঠাৎ করেই এমন কথায় থমকে যান হাসি। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘কীভাবে নিশ্চিত হব, আপনি আমার মা?’ এবারে একটু দম নিয়ে খোদেজা বললেন, ‘তোমার বাম পায়ের হাঁটুর কাছে একটি জন্মদাগ আছে।’ নিজের পায়ে বহু বছরের পুরনো দাগটির দিকে চেয়ে কেঁদে ওঠেন হাসি।

গত ২৩ নভেম্বর মা-মেয়ের পুনর্মিলন ঘটে রাজবাড়ীতে। এই পুনর্মিলনীতে স্থানীয় সাংবাদিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও।