বিদেশ থেকে মাংস আনা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

দেশে মাংসের পর্যাপ্ততা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে গবাদিপশুর মাংস আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এই সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত। পাশাপাশি দেশে গবাদিপশুর মাংসের বিশুদ্ধতা ও মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর

শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। বিদেশ থেকে গবাদিপশুর মাংস আমদানির যৌক্তিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মোছাব্বির হোসেন সম্প্রতি হাইকোটে আবেদনটি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান ও নাজমুল হুদা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম।

অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে দেশে গবাদিপশুর মাংসের চাহিদা ৭২ দশমিক ৯৪ লাখ মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদন হয় ৭৫ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিদেশ থেকে মাংস আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তে দেশের গবাদিপশুর খামারগুলো হুমকিতে পড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন দেশে গবাদিপশুর চাহিদার চাইতে উৎপাদন বেশি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে গবাদিপশুর মাংস আমদানি হলে দেশের প্রায় চার লাখ গবাদিপশুর খামার হুমকির মুখে পড়বে। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি দেশীয় গবাদিপশুর মাংসের মান ও বিশুদ্ধতা নিয়েও রুল  দিয়েছে।’’’