ভারতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে যৌথ নদী কমিশনের সভা স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছয়টি নদীর অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে আলাপ হয়েছে। অনেকগুলো তথ্য পুরোপুরি সংগ্রহ করা হয়নি। সে জন্য এটাকে একটু পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যখন আমরা পুরোপুরি রেডি হব, তখন এটা হবে। জাস্ট সমঝোতার মধ্যে এটা পেছাতে হলো। কারণ তথ্য ঠিকমতো না হলে আলোচনাটা ফলপ্রসূ হবে না।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রবহমান ছয়টি অভিন্ন নদীর বিষয়ে আলোচনা করতে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের সভা গতকাল বুধবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন শেষ মুহূর্তে এসে দুই দিনের এই সভা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ভারতে নাগরিকত্ব আইন পাস নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত সপ্তাহেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছিল।
তবে নদী কমিশনের সভা পেছানোর সঙ্গে ভারতের নাগরিকত্ব আইন পাসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কবে নাগাদ সভা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের হোমওয়ার্কের ওপর নির্ভর করছে। তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে মনে হয়েছে, কোথায় কোথায় জানি দুর্বলতা আছে। সে জন্য আবার একটু যাচাই-বাছাই করা হবে।
ভারতের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিকভাবে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। ভারত একটা বড় সরকার। ভারতে যদি বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আশপাশে এটার কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। আমরা চাই ভারতবর্ষে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হবে না, যাতে আমরা অসুবিধায় পড়ি।’ রাজাকার তালিকা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই তালিকা আরও আগে হলে ভালো হতো। তবে দুর্ভাগ্যবশত পঁচাত্তরের পরে যে সব সরকার ছিল তারা এগুলো ইগনোর করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকায় কিছুটা দুর্বলতা আছে। সেটা আমরা দূর করব।’ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে নারীর অগ্রগতির প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে ‘পেইচিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার’ ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আবদুল মোমেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় পুরুষদেরও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শোকো ইশিকাওয়া বক্তব্য দেন।