রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকায় দেশ-জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। গতকাল বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই নোটিসে মন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে রাজাকারদের তালিকা তৈরিতে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে প্রতিবেদন এসেছে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, যারা এ ধরনের সংবাদ প্রচার করেছে তারা ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন। বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, রাজাকারের তালিকা প্রণয়নের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, বরাদ্দ চাওয়াও হয়নি। কাজেই একটি পয়সাও খরচের প্রশ্নই ওঠে না। এটি একটি অসত্য কথা।
বিজয় দিবসের আগের দিন ১৫ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১০ হাজার ৭৮৯ জন ‘রাজাকারের তালিকা’ প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। ওই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কয়েকজনের নাম আসায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ পরিস্থিতিতে বুধবার সংশোধনের জন্য এ তালিকা স্থগিতের কথা জানানো হয়। ওই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে
মন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই করে স্বাধীনতা দিবসের আগে তালিকাটি প্রকাশ করা হবে।
গতকাল আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠান। পরে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই তালিকার মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও অবদানকে খাটো করা হয়েছে। মন্ত্রীকে দেশ ও জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে নির্দেশনা চাইব।’
নোটিসে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকায় নানা অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এতে এমন সব ব্যক্তির নাম এসেছে যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। দেশবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকায় এটি সব মুক্তিযোদ্ধার হৃদয়ে আঘাত করেছে। তাদের অসম্মান করা হয়েছে যা দেশ ও জাতির জন্য লজ্জার।’
মন্ত্রণালয়ের এ তালিকাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে নোটিসে আরও বলা হয়েছে, ‘এর মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে পদদলিত করা হয়েছে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে নোটিস পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’