সদর উপজেলার আলীপুরায় শহরবানু (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর পর স্বজনদের বিরুদ্ধে গলা কাটার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, গত শুক্রবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই বৃদ্ধা মারা যাওয়ার পর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তার গলা কাটা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহরবানু আলীপুরা মধ্যপাড়ার সরকারবাড়ির সারোয়ার্দীর স্ত্রী। পুলিশ জানায়, চরাঞ্চল আলীপুরা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক
শাজাহান মনা ও কামাল মেম্বারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ১২ দিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় হতাহতসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ ওই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক টেঁটা উদ্ধার এবং ১৩ জনকে আটক করে। নিহত শহরবানু শাজাহানের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, আগের সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধানে শুক্রবার বিকেলে তদন্তে যায় পুলিশ। তখন শহরবানুর সঙ্গেও কথা বলে। পুলিশ চলে আসার পর সন্ধ্যার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে পল্লী চিকিৎসক নজরুলের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজন ও আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহানের লোকজন গলা কাটা শহরবানুকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহেদ আহাম্মেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা মৃত্যুর পর গলা কাটার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পথে গ্রামের দুজন লোক এসে শহরবানুর গলা কেটেছে। এ ছাড়া পল্লী চিকিৎসক কাজীমুদ্দিন ও নজরুলের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে; তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় ওই বৃদ্ধার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।