মোংলা বন্দর

সেই ফিটনেসবিহীন জাহাজের পণ্য খালাসেও অনিয়ম

চলতি বছর একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটানোর পর মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষ সতর্ক করলেও সেই ফিটনেসবিহীন এমভি এনা ড্রাগনে এসেছে ৯ হাজার টন পাথর। তার পণ্য খালাসের জন্য অনুমতি পেয়েছে পশুর চ্যানেলের কাস্টমসের শুল্ক এলাকার বাইরে। এসব অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হলে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সার্ভে না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই জাহজটি বন্দর ত্যাগ করতে পারবে না। 

গত ১১ ডিসেম্বর ৯ হাজার টন পাথর নিয়ে ভারত থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে নোঙর করে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দরের পশুর চ্যানেলে ফের এই ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ না আনার জন্য সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট মেসার্স এটলাস শিপিং এজেন্টের খুলনা এরিয়ার ম্যানেজার মো. রাসেল বলেন, মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষ থেকে এমভি এনা ড্রাগনের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ আছে বলে জানতে পেরেছি। প্রয়োজনে এই জাহাজে করে আর কোনো পণ্য এ বন্দরে আনব না।

ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি এনা ড্রাগন থেকে পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগে আপত্তি জানিয়েছে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর। খুলনায় অবস্থিত নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের জানান, রবিবার (আজ) ঢাকা থেকে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে জাহাজটি সার্ভে না করা পর্যন্ত এটি এ বন্দর ত্যাগ করতে পারবে না। 

মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ বন্দরে আসছে এমভি এনা ড্রাগন। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে জাহাজটি এ বন্দরে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এ কারণে মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষ এই জাহাজের আগের শিপিং এজেন্ট জিসি শিপিংয়ের কর্মকর্তাদের এই জাহাজ না আনার জন্য সতর্ক করে দেয়। 

এ ব্যাপারে জিসি শিপিংয়ের প্রতিনিধি এস এম জহির আলম বলেন, ‘মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষ জাহাজটি না আনার বিষয়ে আমাদের অবহিত করেছে। বন্দর জেটি ও চ্যানেলে দুর্ঘটনার আশংকা থাকায় আমরা জাহাজ কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।’  

এদিকে পশুর চ্যানেলের যে এলাকাটিতে পাথর নিয়ে এমভি এনা ড্রাগন ভিড়েছে তা কাস্টমসের শুল্ক এলাকা না বলে একাধিক বন্দর ব্যবহারকারী জানিয়েছেন। বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের মালিক হোসাইন মোহাম্মাদ দুলাল এ বিষয়ে জানান, কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই শুল্ক এলাকার বাইরে পণ্য খালাস করছে পণ্য আমদানিকারকরা। 

এ বিষয়ে এমভি এনা ড্রাগন জাহাজের কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ অফিসার (পিও) রাবিদা রহমান বলেন, ‘এমভি এনা ড্রাগন পশুর চ্যানেলের যেখানে পণ্য খালাস করবে, সেটা আমাদের শুল্ক এলাকা কি না আমি নিশ্চিত নই।’ তবে কেন পণ্য খালাসে অনুমতি দিলেন জানতে চাইলে কাস্টমসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কর্র্তৃপক্ষ বলেছে, তাই পণ্য খালাসের অনুমতি দিয়েছি।’