ফেসবুক থেকে নতুন করে ২৬ কোটি ইউজারের তথ্য ফাঁস

আবারও ফেসবুক থেকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। হ্যাকাররা এসব তথ্য জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পারিটেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৪ কোটি ৯০ লাখ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী এবং ৪১ কোটি ৯০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে।

বছরের একেবারে শেষদিকে এসে আরও ২৬ কোটি ৭১ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। 

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বব ডায়াচেঙ্কোরের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাইভেসি সেটিংস থাকা সত্ত্বেও ২৬ কোটি ৭১ লাখেরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ইউজার আইডি, নাম, ফোন নম্বর নিরাপত্তাহীন ভাবে পড়েছিল দীর্ঘদিন। সেগুলো ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে চুরি যাওয়া তথ্যগুলি যে কারও হাতে চলে যেতে পারে। কোনো পাসওয়ার্ড ও প্রমাণপত্র ছাড়াও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এসব তথ্য ব্যবহার হতে হবে। চুরি হওয়া সেসব তথ্য ব্যবহার করে এসএমএস বা ই-মেইলে প্রতারণায় নামতে পারে অপরাধচক্র। 

তবে এই ঘটনার জন্য এখনই ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন না ডায়াচেঙ্কো। তার ভাষ্য, ফেসবুকের অব্যবস্থাপনা নাকি ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস ঠিকমতো অনুসরণ না করায় তথ্যচুরির এই ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

এদিকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বিষয়টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দেখছেন। কোম্পানিটির ধারণা, গত কয়েক বছরে যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, তার আগেই ওই তথ্যচুরির ঘটনা ঘটেছে।

চলতি বছর বেশ কয়েকবার তথ্য ফাঁসের মুখে পড়ে ফেসবুক। নভেম্বরেই ফেসবুক ও টুইটার থেকে ক্ষতিকর থার্ড পার্টি অ্যাপের মাধ্যমে হাজারো ফেসবুক গ্রুপ সদস্যদের তথ্য ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেপ্টেম্বরে লাখো ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে থাকা মোবাইল নম্বর একটি অনলাইনে ডেটাবেইসে পাওয়া যায়। ওই ডেটাবেইসে ব্যক্তিগত তথ্য, নাম, পরিচয় ও নানা স্পর্শকাতর তথ্য ছিল বলে জানা যায়।

এপ্রিলে আপগার্ডের নিরাপত্তা গবেষকেরা ৫৪ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, লাইকসহ নানা তথ্য আমাজনের ক্লাউড সার্ভারে খুঁজে পান।

এর আগে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে ফেসবুক থেকে ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে। বিশ্বব্যাপী যা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়। এই ঘটনায় বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফেসবুক।