নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপে মারামারি হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে শিমরাইল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। একই সময়ে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গাড়িমালিকরা।
জানা গেছে, শিমরাইল মোড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ড থেকে ২৭০টি গাড়ি ভাড়ায় চলাচল করছে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সে দলের স্থানীয় নেতা ও সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণ করে এ স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি। এ নিয়ে প্রায়ই ঘটে মারামারি ও পাল্টাপাল্টি কমিটি।
সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু সভাপতি ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক হয়ে একটি কমিটি গঠন করে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেন। আগে গাড়িপ্রতি মাসিক চাঁদা আদায় করা হতো এক হাজার টাকা। নতুন কমিটি ৩০০ টাকা বাড়ালে এবং বিএনপি নেতাকে সাধারণ সম্পাদক করায় দেখা দেয় ক্ষোভ। এর ওপর গত ছয় মাস ধরে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে গাড়িপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা করে। যা মাসে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এতে ফুঁসে ওঠেন গাড়িমালিক ও চালকরা।
এ অবস্থায় গতকাল সকালে যুবলীগের ইকবাল হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা শিব্বির আহমেদের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে মারধর করে স্ট্যান্ড থেকে বের করে দেয় সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে। এ নিয়ে দেখা দেয় উত্তেজনা। পরে দুই গ্রুপ ছুটে যায় থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের বাসভবনে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সেখানেও ঘটে হাতাহাতির ঘটনা। তখন মজিবুর রহমান সিদ্ধান্ত দেন, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন রেন্ট-এ কারের সাধারণ সম্পাদক থাকতে পারবেন না। তাকে আর স্ট্যান্ডে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে ইকবাল ও শিব্বির স্ট্যান্ডে গিয়ে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন গাড়িমালিক ও চালকরা। তখন থানা পুলিশ এসে চাঁদা বন্ধের আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হন। থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, যদি কেউ চাঁদা চায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।