ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করেই মেয়র প্রার্থী দেবে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটি এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে সরে আসতে হবে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। সেক্ষেত্রে নামমাত্র দলীয় প্রার্থী দেবে দলটি এবং মাঠে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একাধিক শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেয়র পদে ছাড় দেওয়ার শর্ত হিসেবে কাউন্সিলার প্রার্থী নিয়ে দরকষাকষিতে যাবেন তারা। সেক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী যত বেশি আদায় করা যায় সে চেষ্টা থাকবে।
অবশ্য শুরু থেকেই দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলে আসছেন, ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। এজন্য দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন দলের নেতারা। জোটগত রাজনীতির কারণেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ছাড় দিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রেসিডিয়াম সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাপা নির্বাচনে অংশ নেবে এটা ঠিক। তবে ঠিক কী পদ্ধতিতে নেবে, সেটা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের ওপর। মেয়র পদে আমরা প্রার্থী দেব ঠিকই, তবে তা কাউন্সিলর পদে ছাড় দেওয়ার শর্তে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দরকষাকষি করে যতটা কাউন্সিলর প্রার্থী বাড়ানো যায়। আমরা চেষ্টা করব কাউন্সিলর পদে জোটগতভাবে প্রার্থী দিতে। সেখানে আওয়ামী লীগের ছাড়ের ওপর নির্ভর করছে মেয়র পদে প্রার্থিতা।
এ ব্যাপারে প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাপা অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং একক প্রার্থী দেবে। তবে ঠিক কীভাবে নির্বাচন করবে ও কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো আলোচনা হয়নি।
সেক্ষেত্রে জোটপ্রধান আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়া হতে পারে কি না– জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, এখন পর্যন্ত সব নির্বাচনই জোটগতভাবেই হয়েছে। তবে দুই সিটিতে কী হয়, সেটা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা না করে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচন নিয়ে আমাদেরও ভাবনা আছে। দু’একদিনের মধ্যেই জাপা নির্বাচনের ব্যাপারে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান এই নেতা।
অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাপার সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাপা এককভাবেই নাকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাব নির্বাচন করবে, তা এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন করবে, এটা ঠিক।
সর্বশেষ আগামী ১৩ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ছাড় দিল জাপা। গতকাল দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও দল থেকে কারণ হিসেবে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে; কিন্তু মূলত জোটগত নির্বাচনের কারণেই এই ছাড় দিল জাপা। এর আগে রংপুর-৩ আসনে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সেখানে জাপার সাদ এরশাদ জোটগতভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গতকাল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক আগে থেকেই মাঠে জাপার বেশ কয়েক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলীয়ভাবে এখনো প্রার্থীর নির্বাচন করেনি জাপা। গত নির্বাচনে দক্ষিণ সিটিতে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাপার সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের মাঠে ছিলেন। কিন্তু দলটি উত্তরে কোনো প্রার্থী দেয়নি। এখানে তারা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে আনিসুল হকের মৃত্যুতে উপনির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমাদের দুই সিটিতেই ভালো প্রার্থী আছে। আমাদের লক্ষ্য এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জোটগত নির্বাচনে অংশ নিলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় পার্টি বরাবরই নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে দলের আগ্রহী মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।