খুবি সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য জাতিকে অনুপ্রাণিত করে

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য পুরো জাতিকে অনুপ্রাণিত করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‌‘একজন শিক্ষক যখন তার আদর্শ থেকে দূরে চলে যান, তখন শিক্ষার্থীদের মাঝে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ গতকাল রবিবার বিকেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ষষ্ঠ সমাবর্তনের বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‌‘উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সফল গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত জ্ঞান মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। চিকিৎসাসহ জীবন সহজ করতে পারে। গবেষণার সেই ফল যেন দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে তা নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণা বাড়াতে হবে। তা হতে হবে আন্তর্জাতিকমানের এবং জীবনমুখী। এ বিষয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের নজর দিতে হবে। এ কাজে শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‌‘স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য। স্বল্পোন্নত ক্যাটাগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে অধিষ্ঠিত হতে তিনটি সূচকের মানদণ্ডেই বাংলাদেশ উন্নীত হয়েছে। আমাদের এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আমাদের দৃষ্টি এখন ২০৪১ সালের পানে। যখন বাংলাদেশ বিশ্বে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‌‘আপনারা জানেন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে দেশ ও জাতির আশা-আকা•ক্ষার কেন্দ্রস্থল। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মূল্যবোধ লালন, নীতি নৈতিকতা, দেশপ্রেম জাগ্রত করার শ্রেষ্ঠ ড়্গেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে যুক্তি ও সত্যের অনুসন্ধান। নতুন নতুন জ্ঞানসৃজন এবং মানবকল্যাণে তার ব্যবহার। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা নিরসনসহ দেশ ও জাতি নির্বিশেষে মানবজাতির ভবিষ্যৎ পথের নির্দেশনা প্রদান। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন জাতিকে যেমন অনুপ্রাণিত করে, তেমনি জাতীয় জীবনে উদ্যমতা ও গতিশীলতা আনে।’

এবারের সমাবর্তনে ৪ হাজার ৪৭৮ জনকে স্নাতক, ২ হাজার ৫৩০ জনকে সœাতকোত্তর, ৫ জনকে এমফিল, ৮ জনকে পিএইচডি এবং ১৭ জনকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি দেওয়া হয়। এছাড়া ‘অসামান্য কৃতিত্বে’র জন্য বিভিন্ন অনুষদের ২৩ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অর্জনসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন খুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হেসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর মু¨রাল ‘কালজয়ী মুজিব’-এর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি।