ছেলেকে আটক করতে দেখে হৃদরোগে মায়ের মৃত্যু

সোনারগাঁয়ে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক যুবককে আটকের সময় বাধা দিতে গিয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাড়ি মজলিস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতের স্বজনদের শান্ত থাকার আহ্বান জানায়।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার মোগরাপাড়া বাড়ি মজলিশ গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সজিবের (২৮) বাড়িতে রবিবার রাতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় সজিবের মা পুলিশকে বাধা দিতে গেলে পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, অভিযানে যাওয়া সোনারগাঁ থানার এসআই হাবিব ও এসআই মনির হোসেন বলেন, ‘সজিব একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার ঘর থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ও এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়। তবে, সজিবের মার সঙ্গে আমাদের ধাক্কাধাক্কির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছেলে আটকের ঘটনা দেখে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। 

এদিকে সজিবের বাবা গিয়াসুদ্দিনের বরাত দিয়ে তার স্বজনরা জানান, সজিবের ঘরে কোনো মাদক ছিল না। পুলিশের দুজন সোর্স ঘরে প্রবেশ করে বালিশের নিচে মাদক রেখে সজিবকে ফাঁসিয়েছে। এক সময় সজিব মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলাফেরা করত। বর্তমানে সে তাদের সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে।

তাকে জোর করে পুলিশ মাদক দিয়ে আটক করলে সজিবের মা জোসনা বেগম বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে সজিবকে নিয়ে যায়। পুলিশের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে জোসনা অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সজিবকে নিয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তার মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই সজিবকে ছেড়ে দেয়।

এ ব্যাপারে এসআই হাবিবুর রহমান জানান, মাদক ব্যবসায়ী সজিবকে ৫০ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করি। তার মা এটা দেখে তার রুমে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যায়।

 এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীর মাকে পুলিশ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা সঠিক নয়। তার মা আগেই স্ট্রোকের রোগী ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আমরা সজিবকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়েছি।