মেহেদী হাসানকে এভাবে কবে খেলতে দেখেছেন? না, সাধারণ দর্শকের তেমন কিছু মনে পড়ার কথা নয়। বাংলাদেশে জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের দর্শকেরা কেবল বিপিএল এলেই দেখতে পান। মানে টেলিভিশনে তাদের খেলা দেখার সুযোগ পান। টিভিতে সম্প্রচার হয় না বলে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট, প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের খেলা তাদের সেভাবে দেখা হয় না। সেখানকার পারফরমাররা তাই সাধারণ দর্শকদের আড়ালেই থেকে যান।
মেহেদী ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার হলেও সোমবার বিপিএলে তাকে নতুনভাবে চিনল দর্শক। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৯ বলে খেললেন ৫৯ রানের এক ‘টর্নেডো’ ইনিংস। ২টি চারের সঙ্গে হাঁকালেন ৭ ছক্কা। তার এই দাপুটে ব্যাটিংয়ে ঢাকা প্লাটুন ৫ উইকেটে হারাল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে।
অথচ এই মেহেদীর উইকেট ‘ভ্যালুলেস’ ভেবেই নাকি এদিন তিন নম্বরে পাঠানো হয়েছিল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেই কথাটা বললেন মেহেদী, ‘ওদের মুজিব ছিল। মুজিবকে খেলা একটু মুশকিল। আমি ভ্যালুলেস উইকেট, মুজিবকে হ্যান্ডেল করার জন্য আমাকে পাঠাইছে।’
অথচ সেই ‘ভ্যালুলেস’ মেহেদীই কিনা ম্যাচের নায়ক বনে গেলেন। ব্যাটিংয়ের আগে বলহাতেও যিনি দলের পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন। সেটিও মুগ্ধতা ছড়ানো বোলিংয়ে: ৪-০-৯-২।
মেহেদীর এই সামর্থ্য দেখেই কিন্তু প্রায় বছর দুই আগে তাকে টি-টোয়েন্টি অভিষেক করানো হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই এক ম্যাচেই অবশ্য থেমে আছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি।
বিপিএলেও এই সুযোগটা সেভাবে পান না মেহেদী। যা নিয়ে আক্ষেপটা এদিন স্পষ্ট ছিল তার কণ্ঠে, ‘বাই বর্ণ আমি এভাবেই খেলি। ঘরোয়ায় যদি দেখেন, ফার্স্ট ক্লাস দেখেন আমি হিট করতে পারি। কিন্তু বিপিএল একটু ভিন্ন জায়গা। সত্যি বলতে সুযোগটা ওভাবে পাই না। আপনি দেখবেন আমার ইনিংসগুলো সব সময় আমি একই জায়গায় ব্যাট করতে পারি না।’
মেহেদী বলে যান, ‘কখনো দশ নম্বর কখনো নয় নম্বর, সে জন্য শেষের দিকে আমার জন্য ভালো করা কঠিন। ওই সময় ভালো বোলার থাকে, ইয়র্কার করে, বাউন্সার মারে। আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়। নতুন বলের জন্য আমি ঠিক আছি। পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারি।’
তবে নিজেকে দলের প্রয়োজনে যেভাবে কাজে লাগানো হোক তার জন্য প্রস্তুত থাকেন মেহেদী, ‘আমি পরিস্থিতির দাবি মেটাতে যা করতে হবে তার জন্য প্রস্তুত থাকি। দশ নম্বরে হোক আর ওপরে হোক।
তবে সেই সঙ্গে একটা দাবিও জানালেন মেহেদী, ‘আমার একটা ডাউন পজিশন (ব্যাটিং পজিশন) ফিক্সড থাকলে আমার জন্য বেটার হয়। কিন্তু দশ নম্বর, নয় নম্বর হলে মোরালি একটু ডাউন থাকি। তবে এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি যে, এখানে সফল হতে পারলে আমার জন্য ভালো।’
ঠিক এক ম্যাচ আগেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের দেওয়া ২২২ রান তাড়ায় নয় নম্বরে খেলতে হয়েছে মেহেদীকে। তার আগের তিন ম্যাচে একদিন ব্যাটিং পাননি। একদিন তিনে খেলেছেন, অন্যদিন আটে। মেহেদী তাই ব্যাটিং অর্ডারে নির্দিষ্ট একটা জায়গা দাবি করতেই পারেন।