চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসে অপহরণের শিকার হয়েছেন আবদুস সবুর (৩৮) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় রুমন আলী (৩২) নামে তার ওই বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সবুর।
অভিযোগ পেয়ে গত শনিবার গোমস্তাপুরের নন্দীপুর এলাকা থেকে সবুরকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের হাতে আটক রুমন। সেখানে তিনি সবকিছু স্বীকার করেছেন। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর সোমবার শিবগঞ্জের কানসাট রানীনগর এলাকা থেকে সবুরকে অপহরণ করে রুমন ও তার সহযোগীরা।
রুমন রানীনগর গ্রামেরই বাসিন্দা। আর সবুরের বাড়ি বগুড়ার কাহালুতে। শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়াতে গিয়ে দু’জনের পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে বন্ধুত্বের সূত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রুমনের বাড়িতে বেড়াতে এসে অপহরণের শিকার হন সবুর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ দেশ রূপান্তরকে জানান, মালয়েশিয়াতে কর্মজীবন শেষে প্রায় চার বছর আগে সবুর দেশে ফিরে এলেও তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক বাজায় ছিল। দেশে এসে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করা সবুর রুমনের বাড়িতে বগুড়ার দই পাঠালে রুমনের পরিবার থেকে সবুরের পরিবারে পাঠানো হতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম।
রুমন কিছুদিন আগে দেশে ফিরে এলে বন্ধুত্বের জেরে সবুরকে তার বাড়ি বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানায়। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর বন্ধুর বাড়ির উদ্দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসে অপহরণের শিকার হন। ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে আসে অপহরণকারী আর কেউ নয়, সবুরের প্রবাস জীবনের বন্ধু রুমন।
তিনি আরও জানান, সবুর কানসাটে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রুমন তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সবুরকে অপহরণ করে কানসাট রানীনগরের একটি আখক্ষেতে বেঁধে রাখে। এরপর দুটি বাড়িতে চার দিন আটকে রেখে সবুরের ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম কার্ড দিয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা তুলে নেয়। পরে সবুরের ফোন ব্যবহার করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
অপহরণ ও চাঁদা দাবির ঘটনার পর সবুরের স্বজনরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে গত শনিবার গোমস্তাপুরের রহনপুরের নন্দীপুর থেকে সবুরকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় অপহরণ চক্রের সদস্য রুমনের আরেক বন্ধু সুমন রেজাকে আটক করা হয়। সোমবার সুমনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
তার জবানবন্দিতে অপহরণের চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে আসে। অপহরণ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।