সুনামগঞ্জে মেয়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে এক মা অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সীমা চন্দ (৩০) নামের ওই মা বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে স্বামী দীপক চন্দের স্ত্রী সীমা চন্দের সঙ্গে আলাপ করে এ কথা জানা গেছে।
তিনি বলেন, পৌর শহরে সোমপাড়া এলাকায় মেয়ে পায়েল চন্দকে (১২) নিয়ে বসবাস করেন তিন। তিন বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। এক সময় তিনি দর্জির দোকানে কাজ করতেন। এখন কোনো কাজ করেন না।
সীমা চন্দ বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর মেয়ে পায়েলের অ্যাপেন্ডিক্সের সমস্যা দেখা দিলে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে মেয়ের অস্ত্রোপচার হয়। এখন তার মেয়ের পাকস্থলীতে পানি জমে গেছে।
তিনি জানান, চিকিৎসকেরা বলছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু মেয়েকে চিকিৎসা করানোর মতো তার কাছে কোনো টাকা নেই। অনেকের কাছে সহায়তা চেয়েও পাননি।
অসহায় ওই মা বলেন, শহরের একজনের কাছে কিছু টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু ওই লোকও টাকা দিচ্ছে না। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে থানায় জানিয়েও কোনো ফল পাননি।
তিনি বলেন, এরপর দিশেহারা হয়ে মঙ্গলবার সকালে ১২টি ঘুমের বড়ি এবং এক বোতল তরল ওষুধ খান। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অজ্ঞান অবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
সীমা চন্দ বলেন, তিন বছর ধরে স্বামী তার কোনো খোঁজ নেন না। মেয়েকে নিয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
মেয়ের অবস্থার কথা জেলা প্রশাসককে জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই নারীর শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এরপর অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর এখন তিনি সুস্থ আছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন।