রিহ্যাব আবাসন মেলা উদ্বোধন করে গণপূর্তমন্ত্রী

সরকারি প্রকল্পে দেশীয় ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাবেন

সরকারি প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় ভালো আবাসন ব্যবসায়ীদের ইমারত নির্মাণের কাজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। গতকাল মঙ্গলবার রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের আবাসন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিলে তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি থাকবে। ঢাকার তুরাগ নদের পাড় ও কেরানীগঞ্জে স্যাটেলাইট সিটি, ঝিলমিল সম্পªসারণ, পূর্বাচল এবং উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সেটা আমরা ব্যবস্থা করব।’ অনুষ্ঠানে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমানোর বিল আগামী সংসদ অধিবেশনে উঠবে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিলটি এখন ভেটিংয়ে আছে। সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি উপস্থাপন করা হবে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট ও প্লটের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি করে আসছে। রিহ্যাব বলছে, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তাতে ফ্ল্যাটের ব্যবসা বাড়বে। ফ্ল্যাট ও প্লটের নিবন্ধন ফি বর্তমানে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এই উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতাই ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধনের আগ্রহ দেখান না। তাতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। আবাসন খাতের মন্দা কাটাতে এ খাতে নিবন্ধন ফি ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে রিহ্যাব।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। বক্তব্য রাখেন রিহ্যাবের সহসভাপতি প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা ও লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে, জাতির পিতার নেতৃত্বের বাংলাদেশে সাধারণ জনগণ ভোগািন্তর শিকার হবেন আর ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা লুটেপুটে খাবে, এটা শেখ হাসিনার সরকার হতে দেবে না। তিনি বলেন, যিনি সততার সঙ্গে ভালো কাজ করবেন, তার জন্য আমরা সবকিছু করব। দুর্নীতি ও অনিয়মের ন্যূনতম স্পর্শ যার সঙ্গে থাকবে তার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশনা সেবাকে সহজীকরণ করতে হবে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় টেবিলে টেবিলে অনাকাি•ক্ষত চাহিদা মেটাবার প্রবণতা দূর করার জন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। নকশা অনুমোদনে ১৬টি স্তরে যেতে হতো। সেবা সহজীকরণের জন্য, রিহ্যাব, স্থাপত্য বিভাগ, নগর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সভা করে ১২টি স্তর বাদ দিয়ে মাত্র ৪টি স্তর রেখেছি। এই চার স্তরেও হয়রানির অভিযোগ দূর করার জন্য অটোমেশন চালু করেছি। তিনি বলেন, ভূমির ছাড়পত্রের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, ভোগািন্তর শিকার হতে হতো, উৎকোচ দিতে হতো। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমির ছাড়পত্র, আমমোক্তারনামা ও নামজারির দেওয়ার বিধান করে দিয়েছি। বলে দিয়েছি যার টেবিলে কাজ আটকে থাকবে তাকে কঠিন শািস্তর মুখে পড়তে হবে।’

রিহ্যাব সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় রিহ্যাবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের রেজিস্ট্রেশন ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে না। টেন্ডারে অংশগ্রহণের জটিলতা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এনেছি। পিপিআর সংশোধন নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন কাজ করছে। এ সমস্যাগুলো দূর হলে নতুন ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তিনি বলেন, যারা সততার সঙ্গে আইন মেনে ব্যবসা করেন, অসাধু আবাসন ব্যবসায়ীরা তাদের সুনাম নষ্ট করছে। সাইবোর্ড ও বিজ্ঞাপনসর্বস্ব ব্যবসায়ীরা স্বল্প আয়ের মানুষ বা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়ের টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এরা রিহ্যাবের সৎ ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দিচ্ছে। এদের ব্যাপারে বিজ্ঞাপন দিয়ে রিহ্যাব সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে পারে। সরকারের একার পক্ষে সবকিছু দেখভাল করা সম্ভব হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জালিয়াতি করে টাকা নেওয়ার প্রবণতা ভুলতে হবে। ঘুষ-দুর্নীতি ও কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ভুলতে হবে। আসুন সবাই মিলে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় শামিল হই।’

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান গণপূর্তমন্ত্রী আমাদের কথা দিয়েছিলেন অল্প দিনের মধ্যেই ওয়ানস্টপ সেবা সার্ভিস চালু করবেন। তিনি সে কথা বাস্তবায়ন করেছেন। শুধু তাই নয়, অনলাইনে এখন প্ল্যান পাস করা হচ্ছে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীও এ বিষয়ে কথা দিয়েছেন। পূর্তমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিলে আমাদের এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে গণপূর্তমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কোনো দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হলে যে শর্ত দেওয়া হয় সেই শর্ত অনুযায়ী আমরা অংশ নিতে পারি না। অথচ রিহ্যাব ঢাকাসহ সারা দেশে বড় বড় ভবন তৈরি করে স্কাইলাইন পরিবর্তন করেছে। তাদের যে অভিজ্ঞতা আছে সেটা কাজে লাগাতে চাই। সে কারণে রিহ্যাব সদস্যরা যেন সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে পারেন সেই সুযোগ আপনি করে দেবেন, এমন দাবি জানাচ্ছি।