পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা

১ম দিন বহিষ্কৃত ৩০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে

পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় সারা দেশে বহিষ্কার করা ১২৭ শিশুর মধ্যে ৩০ শিশু শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পরীক্ষার ১ম দিন দেশের ১৫টি জেলায় প্রাথমিকে ১৩ জন এবং ইবতেদায়িতে ১৭ জন সর্বমোট ৩০ বহিষ্কৃত শিশু পরীক্ষার্থী পুনরায় অংশ নিয়েছে।

নতুন রুটিন অনুযায়ী, ২৪, ২৬ এবং ২৮ ডিসেম্বর সকাল ও বিকেলে দুই ধাপে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পিইসি ও ইবতেদায়ির ইংরেজি বিষয় এবং দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পিইসির প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয় এবং একই সময় ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীর আরবি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর আগামী ২৬ ডিসেম্বর প্রাথমিকের বাংলা ও বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচয় এবং ইবতেদায়ির বাংলা ও বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান। ২৮ ডিসেম্বর প্রাথমিকের গণিত, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ইবতেদায়ির গণিত, কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং আকাইদ ও ফিকহ্‌ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বাড়তি সময় বরাদ্দ থাকবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর এসব পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। এ পরীক্ষা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজন করতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে উপপরিচালক দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা যত শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে সবার কাছেই তথ্য পৌঁছেছি। এদের মধ্যে বেশিরভাগই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তবে কেউ কেউ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অন্যদিকে কেউ কেউ একটা অথবা দুটি বিষয়ে বহিষ্কার হয়েছে।  ফলে তারা শুধু সেই বিষয়েই পরীক্ষা দেবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের এক আদেশের প্রেক্ষিতে আমরা বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাটি পুনরায় গ্রহণ করছি। ৩১ ডিসেম্বর তাদের ফল প্রকাশ করা হবে।’

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ১২৭ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের বহিষ্কার নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘পিইসি পরীক্ষায় শিশু বহিষ্কার কেন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ২১ নভেম্বর তারিখে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এএম জামিউল হক ফয়সাল। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল দেন। এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বল হয়। একই সঙ্গে আদালত ১০ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের তারিখ ধার্য করে। পরে গত ১৮ ডিসেম্বর আদালত শুনানি শেষে বহি®„‹ত সব শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা নিতে এবং একই সঙ্গে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের আদেশ দেন। এরপর গত ২২ ডিসেম্বর জরুরিভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে পরীক্ষার আয়োজন করে।