জাপায় কাদেরের চেয়ারম্যান প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান পদে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের থাকার প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। জাপার গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে জি এম কাদেরকে ওই পদ দেওয়া কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

জি এম কাদেরের পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জহিরুল আলমের করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও জি এম কাদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নুর-উস-সাদিক।

অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাপার গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, কাউন্সিল ব্যতীত এই দলের কোনো নেতৃবৃন্দ কোনো পদে আসতে পারবে না। কিন্তু দলের মহাসচিব হঠাৎ করেই জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করলেন। এখানে গঠনতন্ত্রের নিয়ম না মেনে সেটিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এরই পরিপেক্ষিতে এই রিট আবেদনটি করা হয়। আদালত রুল জারি করেছে।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুর-উস-সাদিক জানান, এ বিষয়ে রিটকারী ইসিতে আবেদন করেছিলেন। সেখানে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। 

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জাপার তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার ছোট ভাই ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন। গত ২১ মার্চ রাতে আকস্মিকভাবে কাদেরকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ। এরপর ৪ এপ্রিল কাদেরকে ফের কো-চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনেন তিনি। গত ৫ মে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন এরশাদ।

গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর ১৮ জুলাই বনানীতে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। তবে ওই ঘোষণার প্রথমে বিরোধিতা করলেও পরে তা মেনে নেন এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ। ৮ সেপ্টেম্বর দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদের ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশন এরশাদ দায়িত্ব পালন করবেন।