মাদকে অর্থায়ন হচ্ছে হুণ্ডির মাধ্যমে : র‌্যাব ডিজি

র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দুবাইসহ দেশের বাইরে থেকে মাদকের চালানের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আর এর অর্থায়ন করা হচ্ছে হুণ্ডির মাধ্যমে। বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা মাদকের পেছনে অপচয় হচ্ছে। মাদকবিরোধী প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার পটুয়াখালীর কুয়াাকাটা সমুদ্রসৈকতে র‌্যাব ফোর্সেস আয়োজিত ‘দৌড়াও বাংলাদেশ’ শিরোনামে ম্যারাথন প্রতিযোগিতা উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

র‌্যাবপ্রধান আরও বলেন, ‘দেশে পুরোপুরি মাদক নির্মূল করা না গেলেও দুষ্প্রাপ্য করা সম্ভব। তাই প্রতিটি প্রবেশমুখে কঠোর অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিগত দুই বছরে আমরা শুধু মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করিনি, সচেতনও করেছি।’

দুবাইভিত্তিক মাদক কারবারিদের হুঁশিয়ার করে ড. বেনজীর বলেন, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক হুণ্ডি ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, যারা মাদক ব্যবসায় অর্থের জোগান দেয়, হুণ্ডি ব্যবসা করে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকাসক্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রয়োজন আরও বেশি মাদক নির্মূল কেন্দ্রের। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাদের ছোট্ট একটি অংশ মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। তারা সীমান্তের ওপার থেকে মাদক নিয়ে আসে।

গতকাল দুপুর ১২টায় র‌্যাবের এ ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ সব শ্রেণি-পেশার প্রায় হাজারও মানুষ অংশগ্রহণ করে। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতি লেক হয়ে ১০ কিলোমিটার দৌড়ে আবার ফিরে এসে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে র‌্যাবপ্রধান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে জ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে হবে।’ দৌড়ে অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বন্ধু নির্বাচন সঠিক হলে এই মাদক থেকে দূরে থাকা সম্ভব।’

বরগুনা সরকারি কলেজের ২৩ শিক্ষার্থী ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে জানিয়ে সহযোগী অধ্যাপক আহসান হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৬ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। এই অভিজ্ঞতা থেকে যেটা পেয়েছি, অনিয়মিত, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ারাই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।’ ‘মিস-গাইডেড’ হয়ে অনেকে জড়িয়েছে বলে জানান তিনি। 

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সবাইকে বলব, কোনো বাহিনীর মধ্যে যেন কেউ মাদক সেবন না করে কিংবা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকে। নিজেদের মধ্যে যদি এ সমস্যা থাকে, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’

র‌্যাবের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে গোলাগুলিতে এ পর্যন্ত ১৩০ জন নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে ৩২ হাজার ৭৪৬ জন। এছাড়া ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার ৬৪৫টি ইয়াবা, ২ লাখ, ৪১ হাজার ৪২৩ বোতল ফেনসিডিল এবং ৬৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।